গানেই সক্রিয় শুভ্রদেব

আপডেট : ২৬ মে ২০২১, ০১:০৪ এএম

বাংলাদেশের সংগীতের সোনালি যুগের উজ্জ্বল তারকা শুভ্রদেব। শুধু নিজস্ব গায়কী নয়, ব্যক্তিত্ব, রুচিবোধ, ফ্যাশন সেন্স, বাচনভঙ্গির জন্য তিনি সব সময় অন্য শিল্পীদের চেয়ে একটু আলাদা ছিলেন ভক্তদের কাছে। সহশিল্পীরা তাকে নিপাট ভদ্রলোক বলেই অভিহিত করেন। বাংলাদেশের সংগীতে পোস্টারবয় ইমেজ খুব বেশি শিল্পীর ছিল না। যে দুই-একজন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম শুভ্রদেব। অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন অডিও এবং প্লেব্যাকে। তার সময়ের অনেকে গান ছেড়ে দিলেও তিনি গান আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছেন। এখনো টিভি খুললে তাকে পাওয়া যায়। স্টেজ শোতেও তিনি বেশ নিয়মিত। প্লেব্যাকে এখন ব্যস্ততা কমলেও সম্প্রতি একটি ছবির গানে দীর্ঘদিন পর কণ্ঠ দিলেন। ছবির শিরোনাম ‘সুরঞ্জনা’। কালজয়ী কবি জীবনানন্দ দাশের অমর কবিতা ‘আকাশনীলা’ অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন সৈয়দ মাসুম। ইতিমধ্যেই গানগুলোর রেকর্ডিং হয়েছে। এতে তিনি ছাড়াও গেয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ ও ফাহমিদা নবী। শুভ্রদেব গেয়েছেন ‘আমি ভাবছি আর চেয়ে চেয়ে দেখছি’ শিরোনামের গানটি। এর গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মিলন খান। শুভ্রদেব বলেন, ‘প্রায় এক বছর পর সুন্দর একটি গান করলাম। অসাধারণ কথা ও সুরের এমন গান এখন হয় না বললেই চলে। এ গানের মাধ্যমে শ্রোতারা আবার সোনালি দিনের শ্রুতিমধুর গানের জগতে ফিরে যাবেন।’ নির্মাতা জানান, শাপলা মিডিয়া প্রযোজিত এ ছবির শিগগিরই অভিনয়শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হবে ও শ্যুটিং শুরু হবে।

এই করেনাকালীন সময়ে সবাই দীর্ঘদিন লকডাউনে ঘরবন্দি থাকলেও শুভ্রদেব সেভাবে ঘরের মধ্যে ছিলেন না। দুইবার দীর্ঘ সময় থেকে এসেছেন আমেরিকা, একবার গিয়েছেন ভারতের মাদ্রাজে। তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় আমার পরিবারের বড় একটি অংশ থাকেন। সেখানে আমার তিন বোনের সংসার। আরেক বোন কানাডায়। আর মাদ্রাজ আমার খুব প্রিয় জায়গা। তাই বাংলাদেশে যখন লকডাউন হলো তখন এসব জায়গায় থেকেছি।’

শুধ্ইু কি ঘুরে বেড়ানো? নাকি এর পেছনে অন্য কারণও আছে। হেসে শুভ্রদেব বললেন, ‘আমাকে যারা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তারা জানেন আমার কিছু আয়েসি বিষয় আছে। আমেরিকায় আটলান্টিক মহাসাগরের পাশেই একটি রিসোর্টে আমি প্রায় সময় কাটাতে যাই। ওই নৈসর্গিক পরিবেশে জীবনের সব ক্লান্তিকে আমি ছুটি দিতে পারি। আমার মধ্যে যে শৈল্পিক সত্তা আছে সেটি জেগে ওঠে। সেখানে বসে গানের কম্পোজিশন করি। একটা কথা আছে না, ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। আমার হয়েছে তাই। যেখানেই যাই, মোটামোটি গান আমার সঙ্গেই থাকে।’

গান নিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন নতুন পরিকল্পনা মাথায় আসে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আমি একটু আলাদাভাবে ভেবেছি। আমার দেশের গানকে আন্তর্জাতিক মানের করা যায় কীভাবে সেই চেষ্টা করেছি। এজন্যই তো এত বড় বড় শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তবে সব পরিকল্পনা কিন্তু সমাজ বাস্তবতায় করা হয়ে ওঠে না। তবে কিছু কাজ তার মধ্যে এগিয়ে রাখছি। এই যেমন কিছু গানের কম্পোজিশন করেছি। সামনেই সেগুলো এক এক করে প্রকাশ করব।’

গায়ক শুভ্রদেবের গানের কথা সবারই কম-বেশি জানা। কিন্তু তিনি কত উচ্চমার্গীয় একজন সুরকার সেটি শাকিলা জাফরের কণ্ঠে ‘ভুলিতে পারি না তারে, ভোলা যায় না’ গানটি শুনলেই বোঝা যায়। এটি শুভ্রদেবের কালজয়ী সুরসৃষ্টি। এখনো এই গান মানুষকে আবেগে ভাসায়, চোখের কোণে পানি এনে দেয়। বিষয়টি শুভ্রদেবও জানেন। তাই তো আবারও এমন একটি মাস্টার পিস তৈরি করতে চান। বললেন, ‘ভুলিতে পারি না’র মতো আরেকটি গান বেঁধেছি। এ প্রজন্মের জনপ্রিয় একজন নারী শিল্পীকে নিয়ে গাওয়াব। তার সঙ্গে এখনো কথা বলিনি বলে নামটি এখনই প্রকাশ করছি না। তবে আমি আশা করছি এই গানটিও দর্শকের মনে থেকে যাবে।’

করোনাকালীন সময়ে নিজের মধ্যে নতুন কোনো উপলব্ধির জন্ম হলো কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘উপলব্ধির চেয়ে আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে দেশের জন্য কিছু করা যায় কিনা। আমি বায়ো ক্যামেস্ট্রিতে পড়েছি। শুধু সেজন্য নয়, নানাভাবে বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তের মেডিকেল সেক্টরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, বন্ধুত্ব হয়েছে। আমি চেষ্টা করছি তাদের মাধ্যমে আমাদের দেশে যদি অতিরিক্ত আরও কিছু করোনা ভ্যাকসিন আনা যায়। এ ব্যাপারে অক্সফোর্ডের কিছু ডাক্তারের সঙ্গে কথাও হয়েছে। মালয়েশিয়ায় আমার এক চিকিৎসক বন্ধু আছে ড. শংকর নামে। সেও আমাকে এ ব্যাপারে সহায়তা করবে বলেছে। যদি দেশের জন্য কিছু করতে পারি সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগার বিষয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত