ইতালি, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক এবং ওয়েলস নিয়ে এবার ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ‘এ’ গ্রুপ। দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সফল ইতালি। ১৯৬৮তে শিরোপা জিতেছে তারা। এ ছাড়া টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে ২০০০ ও ২০১২ সালে। র্যাংকিং হিসাব করলে ইতালির পরই সুইজারল্যান্ড। তারপর ওয়েলস এবং তুরস্ক।
ফুটবলে ইতালির নাম উচ্চারণ হতে মনে পড়বে চারবার বিশ্বকাপ জয়ের কথা। কিন্তু সেই দলটিরই ২০১৮’র রাশিয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার ব্যর্থতা বিস্মিত করেছিল অনেককে। এরপর অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে আজ্জুরিরা। ২০১৮’র মে-তে রবার্তো মানচিনি দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বদলে গেছে ইতালি। এরপর টানা ২৬ ম্যাচ অপরাজিত ছিল তারা। বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচের সবগুলো জিতেছে। গোল করেছে ৩৭টি। বিপরীতে মাত্র ৪টি গোল হজম করেছে। এ থেকেই বোঝা যায় ইতালির ডিফেন্স এবং আক্রমণভাগ এখন কতটা শক্তিশালী। বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ে সাত নম্বরে আছে ইতালি। ‘এ’ গ্রুপে ফেভারিট ইতালি তাতে সন্দেহ নেই। আয়োজক না হয়েও গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ নিজেদের মাটিতে রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে খেলার সুবিধা পাচ্ছে মানচিনির দল।
গেল কয়েক বছরে ফিফা র্যাংকিংয়ে বেশ ভালো উন্নতি করেছে সুইজারল্যান্ড। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো কোনো বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে ম্যাচ জেতেনি তারা। এখন পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ইউরোর সর্বশেষ আসরের দ্বিতীয় পর্বে খেলা। তবে দলে আছেন গ্রানিত সাকা, জাদরান শাকিরির মতো খেলোয়াড়। তাই এবার সুইসরা তাদের অতীত সাফল্যকে ছাড়িয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ফিফা র্যাংকিংয়ে সুইসরা ১৩ নম্বরে। ইউরো বাছাইয়ে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে তারা। ড্র করেছে দুটি, জিতেছে পাঁচটি।
সুইজারল্যান্ডের মতো তুরস্কও ১৯৯৬’র ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার খেলার সুযোগ পায়। তবে সাফল্যে সুইসদের চেয়ে এগিয়ে তারা। ২০০৮-এর সেমিফাইনালে খেলেছিল। এবার তুরস্ককে দেখা হচ্ছে ভিন্নভাবে। এর বড় কারণ, ইউরো বাছাইপর্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স তাদের হারাতে পারেনি। দুই দেখায় একবার জয় এবং একটি ড্র করে তুরস্ক। বাছাইয়ে সাত জয়, দুই ড্র এবং একটি মাত্র হার ছিল তুরস্কের। ফরাসিদের চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট পিছিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে এবার ইউরোতে খেলার সুযোগ পেয়েছে তারা। কয়েক মাস আগে কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের একটি ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৪-২ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছে তুর্কিরা। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন বুরাক ইলমাজ। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের ওপর ভর করে ফরাসি লিগ জিতেছ লিলে, যেখানে ১৬ গোল করেন ইলমাজ।
অপরদিকে ওয়েলস প্রথমবার ২০১৬’র ইউরোর চূড়ান্ত পর্বে খেলতে নেমেই সেমিফাইনালে উঠেছিল। এবার বাছাইপর্বে তেমন ভালো করেনি গ্যারেথ বেলের দল। প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতে হারে। পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে মোট আট ম্যাচের চারটিতে জয় ও দুই ড্রতে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে মূলপর্বে ওঠে। চার জয়ের দুটি আবার দুর্বল আজারবাইজানের সঙ্গে। দলের মূল কোচ রায়ান গিগস নেই। এক নারীকে যৌন হয়রানির দায় আছে তার ওপর। গেল নভেম্বরে দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। দলের মূল ভরসা ৩১ বছরের গ্যারেথ বেল। বাছাইয়ে তারা গোল করেছে মাত্র ১০টি, হজম করেছে ৬টি। বেল কিছুদিন আগে বলেন, ‘আমরা ইউরো ২০১৬’র পারফরম্যান্সের পুনঃ মঞ্চায়ন করতে চাই। তবে বাস্তবতা হলো এটি ভিন্ন এক দল।’ সর্বশেষ বুধবার ইউরোর প্রস্তুতিতে ফ্রান্সের কাছে ০-৩ গোলে হেরেছে ওয়েলস।
