মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘করোনায় গরিব হয়ে যাওয়া দুই কোটি মানুষের স্বীকৃতি নেই বাজেটে’

আপডেট : ০৬ জুন ২০২১, ০৭:৫৯ পিএম

বাজেট বিষয়ে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, রাস্তা বড় হয়েছে। কিন্তু সেই রাস্তার গাড়িতে যাত্রী তুলতে ভুলে গেছেন অর্থমন্ত্রী। পিছিয়ে পড়া মানুষেরা ওই গাড়ির যাত্রী হতে পারেননি। এত দিন ধরে যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তাতে রাস্তা বড় হয়েছে।

রবিবার নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে ‘জাতীয় বাজেট ২০২১-২২: পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা বলেন।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সদস্য সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে এই সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, করোনার কারণে হওয়া দেশের দেড় থেকে দুই কোটি নতুন গরিবকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাদের জন্য কোনো উদ্যোগ নেই। করোনায় নতুন গরিবের সংখ্যা বাড়ল কত, তা নিয়ে বাজেটে কোনো তথ্য নেই। এ নিয়ে সরকারি কোনো পরিসংখ্যানও নেই। তাই নতুন গরিবদের জন্য কোনো নীতিও নেই।

আরও বলা হয়, এত দিন তথ্য–উপাত্তের ঘাটতি ছিল। এখন তা তথ্যের নৈরাজ্যের দিকে যাচ্ছে। তথ্যঘাটতির কারণে বাজেটে জনগণের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। একটি ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণভাবে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেট থেকে প্রাতিষ্ঠানিক খাত বেশি সুবিধা পেয়েছে। অনানুষ্ঠানিক তেমন কিছু পায়নি। করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা বাজেট প্রণয়নে আমলে আনা হয়নি।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, করোনার কারণে শিক্ষা খাত বিপর্যয়ের বিষয়টি বাজেটে আনা হয়নি। অনলাইনে সচ্ছল পরিবারের সন্তানেরা বেশি ক্লাস করছে। কিন্তু পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা একদমই ক্লাস করতে পারছে না।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষ কত আছে, তা নিয়ে তথ্য–উপাত্তের ঘাটতি আছে। তাই সঠিক নীতি নেওয়া যাচ্ছে না। এবারের বাজেট আমার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

এসডিজি প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সদস্য এবং বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্যবিদ মোশতাক রাজা চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক সমস্যা সম্পর্কে কোনো বক্তব্য নেই। সংস্কারের উদ্যোগ নেই। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে কোভিডকে বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ জন্য একটি স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের সুপারিশ করেন তিনি।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, করপোরেট কর কমানো হলেও করোনাকালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য তেমন উদ্যোগ নেই।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তথ্য না থাকায় পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না। আবার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় গরিব মানুষের কাছে নগদ টাকা পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত