জলাবদ্ধতা থেকে সহসাই মুক্তি মিলছে না চট্টগ্রামবাসীর

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকা মেগা প্রকল্প

আপডেট : ০৯ জুন ২০২১, ০১:৩৮ এএম

চট্টগ্রাম নগরীর দুঃখখ্যাত জলাবদ্ধতা নিরসনে হাতে নেওয়া প্রকল্প জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকা গেছে। ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (সিডিএ) নেওয়া এ মেগা প্রকল্পের অধীনে ৬ হাজার ৫১৬ কাঠা জমি অধিগ্রহণ করা না গেলে খালের পাড়ে রিটেইনিং ওয়াল, রাস্তা ও তিনটি জলাধার নির্মাণ করা যাবে না। গত তিন বছরে প্রকল্পের ৫১ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। বাকি কাজ শেষ হতে আরও দুই বছর লাগবে বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে নগরবাসীর অনেকেই বলছেন, প্রকল্পটির অধীনে এখন পর্যন্ত যেসব কাজ হয়েছে তাতে নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখনো আগের মতোই বৃষ্টি হলেই নগরীর নিম্নাঞ্চলে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি উঠে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।

অবশ্য প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল শাহ আলী নগরবাসীর ওই ভাষ্য মানতে নারাজ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রকল্পের ৫১ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে পুরনো ও নতুন মিলে ৭২ কিলোমিটারের বেশি ড্রেন, নগরীর বিভিন্ন খালের ওপর ৫৪টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। খালের পাড়ে ৮৫.৬৮ কিলোমিটারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৩.০৫ কিলোমিটার অংশের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অঙ্গ খালের দুপাড়ে রিটেইনিং ওয়াল এবং তিনটি জলাধার নির্মাণ। এসবের জন্য ৬ হাজার ৫১৬ কাঠা জমি প্রয়োজন। কিন্তু মূল্য জটিলতার কারণে এসব জমি এখনো অধিগ্রহণ করে দিতে পারেনি সিডিএ। এই জমি অধিগ্রহণ এখন বড় বাধা। এ কারণে নির্মাণকাজ অনেকটা আটকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, ডিপিপি অনুযায়ী ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মধ্যে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে ৩ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। বাকি ১ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের জন্য। নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে দেওয়া ৩ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ইতিমধ্যে কয়েক দফায় ১ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এখন অর্থ সংকটও একটা সমস্যা। তবে নির্মাণকাজ থেমে নেই। আগে বৃষ্টির পানি দীর্ঘক্ষণ জমে থাকত। কিন্তু এখন ড্রেন প্রশস্ত করার কারণে দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে।

তবে প্রকল্প পরিচালকের দাবির সঙ্গে নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র মিলছে না। সবশেষ গত রবিবার এক দিনের বৃষ্টিতে নগরীর নিম্নাঞ্চলের পাশাপাশি উঁচু এলাকায়ও হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি উঠে। এতে দুর্ভোগ চরমে উঠে নগরবাসীর। এ সময় নগরবাসীর অনেকেই হাজার কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের নির্মাণকাজ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানান।

এ প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জেরিনা হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটির ডিপিপির মধ্যেই অসংগতি আছে। কোনো ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়া প্রকল্প নিলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। প্রকল্প নিলেই কি জলাবদ্ধতা কমে যাবে? শুধু ড্রেন পরিষ্কার ও রাস্ত উঁচু করেই কি জলাবদ্ধতা নিরসন হবে? কই আগে তো জিইসি মোড়ে পানি উঠত না। এবার জিইসি মোড়ও ডুবল। তাহলে এটাই বলা যায়, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ প্রক্রিয়াগতভাবে হচ্ছে না। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া মেগা প্রকল্পটি সমন্বয় ও সঠিক প্রক্রিয়ায় হওয়া প্রয়োজন।’

এ প্রসঙ্গে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে একটু জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটি নেওয়ার সময় ডিপিপিতে জমির মূল্য ছিল দেড় গুণ। কিন্তু এখন সরকারি নির্দেশনায় তিন গুণ হয়ে টাকার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই জমি অধিগ্রহণ জটিলতা কাটাতে ডিপিপি সংশোধন করা হচ্ছে। তা মাসখানেকের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।’

‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত