উপাচার্যের অভিনয় করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত: কলিমউল্লাহ

আপডেট : ১০ জুন ২০২১, ১০:৫২ পিএম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর। এ নিয়ে তিনি দেশজুড়ে আলোচনায়। এরপর বুধবার রাত ৩টায় ক্লাস নিয়ে দখল করে রেখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিউজফিড। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য।

সেখানে দেখা যায়, পুলিশের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে অভিনয় করছেন কলিমউল্লাহ। একজন উপাচার্য হিসেবে সিনেমায় অভিনয় করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফেইসবুকে। তবে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তিনি।  

নিজের অভিনয় জীবনের ইতিহাস বলতে গিয়ে কলিমউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে জানান, তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে (পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিল সংলগ্ন ওয়াইজঘাটে)। সেখানে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। সেখানে পড়তে গিয়ে তিনি অভিনয়সহ নাচ-গানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পারিবারিক অনুপ্রেরণাও তার সঙ্গী ছিল। মাস্টার্স লেভেলে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগে পড়তে গিয়ে সতীর্থ হিসাবে পান ‘লাল কাজল’ চলচ্চিত্রের পরিচালক মতিন রহমান, অভিনেত্রী আফসানা মিমি, মাসুকা আলম রাকাসহ আরো অনেককে।

ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগে পড়ালেখা করাকালীন তিনি ফিল্ম স্টাডি দেখতে হলিউড গিয়েছিলেন বলে জানান।

image

কলিমউল্লাহ বলেন, ফেইসবুকে যে ভিডিওটি ভাইরাল সেই সিনেমায় আমি প্রথম অভিনয় করি। ব্যাপক ব্যবসা সফল সিনেমা ‘শ্যুটার’। যেটি একসঙ্গে সারাদেশের ১৪৮ প্রেক্ষাগৃহে  মুক্তি পায়। শ্যুটার সিনেমায় আমি মূলত ঢাকার পুলিশ কমিশনারের চরিত্রে অভিনয় করি।

তিনি জানান, তার অভিনিত আরেকটি চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘বাঙালি বিউটি’। যেখানে অভিনয় করেছিলেন, রাহশান নূর, মুহতাহিনা টয়া ও পীযুশ বন্দোপাধ্যয়। এ ছবিতে তিনি নায়িকার বাবার বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘বাঙালি বিউটি’ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে চীনের বাজারে মুক্তি পায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক বিরোধী একটি ডকুমেন্টারিতেও তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চরিত্রে অভিনয় করেন।

কোন চলচ্চিত্রে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করতে চান কি না,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো পরিচালক যদি এমন প্রস্তাব দেন, তাহলে সানন্দে গ্রহণ করবেন।

তার প্রিয় চলচ্চিত্র ‘আউট অব আফ্রিকা’ এবং প্রিয় অভিনেত্রী আউট অফ আফ্রিকা সিনেমার মেরিল স্ট্রিপ ও অভিনেতা ভিক্টর বানার্জি।

ফেইসবুকে তার অভিনীত সিনেমার দৃশ্য নিয়ে ফেইসবুকে ট্রল করা প্রসঙ্গে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘কেউ যদি আমার অভিনয় নিয়ে। আলোচনা-সমালোচনা এমন কি ট্রল করে তাহলে বুঝতে হবে অভিনেতা হিসেবে আমি স্বার্থক। কেন না একজন অভিনেতার প্রধান কাজ হচ্ছে দর্শককে আনন্দ দেওয়া’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করাটা অনেকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন আমি কিন্তু আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি। এটা করতে গিয়ে কখনো কখনো আমি দিনে ২২ ঘণ্টা কাজ করে থাকি। কাজের ফাঁকে আমি যে অভিনয় করছি, এটা সবার ইতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত। আমি মনে করি আমাকে দেখে অন্য কোনো উপাচার্যের মনে যদি অভিনয়ের সুপ্ত ইচ্ছে থাকে তাহলে সব সংশয় দূর করে তিনিও অভিনয় আসবেন’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত