চার বছরের শিশুসন্তান লিজাকে চড় মারার জের ধরে ফুপু নিকিতা আক্তারকে (৪০) শিলপাটা ও বঁটির আঘাতে হত্যা করেছেন ভাতিজি জেসমিন আক্তার।
রাজধানীর গুলশানের নর্দার কালাচাঁদপুরে সংঘটিত এ হত্যার দায় স্বীকার করে গতকাল শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন জেসমিন। আদালত তাকে শিশুসন্তানসহ কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে। নিকিতা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মো. রেজাউল এসব তথ্য জানান।
গত বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে গুলশান কালাচাঁদপুরের ওই বাসার দরজার লক খুলে মরদেহ উদ্ধার করে গুলশান থানা পুলিশ। পরে মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল পরিবাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবারই জেসমিনকে গুলশান থানা এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন নিকিতার ভাই আজাদ হোসেন। মামলার একমাত্র আসামি করা হয় জেসমিনকে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রেজাউল দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল আদালতে নিহতের ভাতিজি জেসমিন হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এজন্য তার রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে শিশুসন্তানসহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
গুলশান থানায় করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গুলশানের ওই বাসায় গত ঈদের পর থেকে একাই বাস করতেন নিকিতা। এ সময় তার স্বামী হৃদয় হাসান মুরাদ শেরপুরের বাগলগড়ে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। গত ৫ জুন নিকিতার ভাতিজি জেসমিন আক্তার (২৭) দুই সন্তানসহ ওই বাসায় বেড়াতে আসেন। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর থেকে নিকিতাকে ভাই আজাদ হোসেন একাধিকবার ফোন করেন। কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় তিনি নিকিতার বাসায় গিয়ে কলিংবেল চাপেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ভাতিজি জেসমিনকে ফোন করলে তিনি ফোনে আজাদ হোসেনকে গালিগালাজ করেন এবং বলেন, নিকিতাকে শিলপাটা দিয়ে মাথায় আঘাত করে ও ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মৃতদেহ বাসার বেডরুমের মেঝেতে ফেলে ফ্ল্যাটের তালা বন্ধ করে দুই সন্তানকে নিয়ে বের হয়ে গেছেন।
গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, নিকিতার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহালে ভুক্তভোগীর মুখে, মাথা ও গলায় গভীর আঘাতের কথা উল্লেখ আছে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জেসমিন হত্যাকা-ের কথা স্বীকার করেছে।
