ম্যাচটা খেলতে বলেছিলেন এরিকসেনই

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ১১:২৭ পিএম

‘ফুটবল ইজ অ্যা বিউটিফুল গেম অ্যান্ড ক্রিস্টিয়ান প্লেজ ইট বিউটিফুলি।’  উয়েফা প্রেসিডেন্ট অ্যালেকজান্ডার সেফেরিনের শনিবার রাতের টুইট। এর পরের অংশেই তিনি ডেনমার্ক-ফিনল্যান্ড ম্যাচের সেরা হিসেবে ঘোষণা দেন ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের নাম। ইউরো অভিষেকেই গোল করে ফিনল্যান্ডকে জেতানো জোয়েল পোহানপালো হতে পারতেন ম্যাচসেরা। হতে পারতেন পেনাল্টিসহ ডেনমার্কের কমপক্ষে ৭ নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেওয়া ফিনিশ গোলরক্ষক লুকাস হ্রাডেকিও। কিন্তু উয়েফা রাতের সেরা নির্বাচিত করেছে এরিকসেনকে। তিনি কেবল মৃত্যুকে জয় করেননি। জিতে নিয়েছেন কোটি ফুটবলভক্তের হৃদয়।

শনিবার কোপেনহেগেনে খেলার প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে আচমকা সাইডলাইনের পাশে মুখ থুবড়ে পড়ে যান ডেনমার্ক প্লে-মেকার। এরপর যা ঘটেছে, তা কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্বকে। সতীর্থদের ভয়ার্ত অবয়ব নিয়ে তাকে ঘিরে থাকা, চিকিৎসকদের তৎপরতার ছবি যতই ছড়িয়েছে অন্তরজালে, উদ্বিগ্ন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ক্রমেই। মাঠেই অবশ্য জ্ঞান ফিরে আসে এরিকসেনের। দলের চিকিৎসকের সঙ্গে কথাও বলেন। নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। পরীক্ষার পর জানা যায়, স্থিতশীল আছেন ডেনিশ প্লে-মেকার।

ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়ে ফুটবল বিশ্ব। স্থগিত ম্যাচের ভাগ্য ছেড়ে দেওয়া হয় দু’দলের ওপর। একটা সূত্র বলছে, ফেসটাইমে এরিকসনই সতীর্থদের বলেছেন খেলাটা শেষ করতে। আশ^স্ত হয়ে তারা সম্মতি দেয় খেলার। পৌনে ২ ঘণ্টার পর শুরু হওয়া ম্যাচে ডেনমার্ক প্রাধান্য বিস্তার করে খেললেও ধারার বিপরীতে গোল করে ঐতিহাসিক জয় পায় ফিনল্যান্ড।

দলের হারের হতাশা আছে। তবে সঠিক চিকিৎসায় সতীর্থের ফিরে আসাটাই ডেনিশদের জন্য ছিল বড় স্বস্তির। উয়েফার জন্যও এরিকসেনের ফিরে আসা বুক থেকে পাথর নেমে যাওয়ার মতোই। সংস্থার প্রধানের আবেগি বক্তব্য, ‘এরকম মুহূর্ত সবধরনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। আমি ক্রিস্টিয়ানের দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করছি ও প্রার্থনা করছি যাতে তার পরিবার বিশ্বাস রাখার শক্তি পায়। ফুটবল পরিবার যে কতটা ঐক্যবদ্ধ, সেটা ফের বোঝা গেল। ফুটবলের অপর নাম সুন্দর। আর এরিকসেন খেলাটা খেলে সুন্দর করে।’ ডেনমার্ক কোচ ক্যাসপার হুলম্যান্ড ম্যাচ শেষে নিজের আবেগ চেপে রাখতে পারেননি, ‘মাঠে খেলোয়াড় যারা ছিল, তারা একেবারেই ভেঙে পড়েছিল। ম্যাচটা চাইলে তারা পরের দিন খেলতে পারত। কিন্তু এরিকসেনের জ্ঞান ফিরে আসায় ট্রমা কাটিয়ে ওরাই ম্যাচটা খেলে ফেলতে চেয়েছে। সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের যে উদাহরণ তারা তৈরি করেছে তার জন্য আমি গর্বিত।’

এরিকসেনের ঘটনায় স্তম্ভিত বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। ডেনমার্ক প্রবাসী এই মিডফিল্ডার জাতীয় দল নিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই খেলতে কাতারে। সেখান থেকে জানিয়েছেন, ‘যখন জানলাম এরিকসেনের ঘটনাÑ অনেক অনেক খারাপ লেগেছে। শুধু তার জন্য নয়, ডেনমার্ক দলের খেলোয়াড়দের জন্যও, যারা ওর সঙ্গে খেলে এবং ওর পরিবারের জন্য। যারা ফুটবল খেলে, পেশাদার, অপেশাদার সবাই ওর জন্য দোয়া করছে।’ স্মৃতিচারণ করেন জামাল, ‘দু’বার ওর বিপক্ষে খেলেছি। আমার বয়স তখন ১৫ বা ১৬। ওই সময় ম্যাচের আগে কোচ আমাকে বলল, প্রতিপক্ষ দলে একজন বিস্ময় বালক আছে। যখন ম্যাচ শুরু হলো, আমরা এগিয়ে ছিলাম, তখন ও একেবারে আচমকা ২টা গোল করল। ওই ম্যাচ আমরা জিতেছিলাম। দ্বিতীয় ম্যাচে ও আবার আমাদের বিপক্ষে দুটো গোল করল। ওই মুহূর্তে বুঝতে পারলাম ছেলেটা সত্যিই বিস্ময় বালক। এক মাস পর আয়াক্স ওকে কিনে নিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত