অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী ইতিহাস সৃষ্টি করছেন বলে উল্লেখ করে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে, মেট্রোরেল নির্মিত হচ্ছে, আকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ঘুরছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে, টানেল নির্মিত হচ্ছে, ফোরওয়ে–এইটওয়ে রাস্তা নির্মিত হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, কিন্তু দেশে কি গণতান্ত্রিক অবস্থা আছে? কোনো নির্বাচনী ব্যবস্থা আছে?
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হারুনুর রশীদ এ কথা বলেন।
সাংসদ হারুন বলেন, একটি রাষ্ট্রের আর্থিক কাঠামোর দিকে দৃষ্টি দিতে গেলে তার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান কী, সেটা বিবেচনার বিষয়। দেশের শেয়ারবাজার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি আছে। সেখানে মাঝেমধ্যে চোখ একটু খুলছে, আবার চোখ বন্ধ করছে। চোখ খুলে যখন দেখে দরবেশ বাহিনী চারদিকে ঘেরা, তখন আবার চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
হারুনুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো আজ সাংঘাতিকভাবে লুটেরাদের দ্বারা আক্রান্ত। লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে, ঋণগ্রহীতারা কেউ ঋণ ফেরতও দিচ্ছে না, ঋণখেলাপিও হচ্ছে না। তারা দেদার আনন্দ–ফুর্তি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে কারণে ব্যাংকগুলো আজ আমাদের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের সব কেবিনে ভর্তি। বঙ্গবন্ধু চিকিৎসক পরিষদের ডাক্তাররা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছে। আর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ এখন নিঃসন্দেহে একটি দুর্যোগকবলিত দেশে পরিণত হয়েছে।
সাংসদ হারুন বলেন, জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিরোধী দল একাকার। বিরোধীদলীয় নেতা বাইরে বলছেন, বিরোধী দলের কোনো মূল্য নেই। সরকারি দলের কোনো মূল্য আছে? মন্ত্রীরা বরাবরই বলছেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ অপরিহার্য নয়। এভাবে রাষ্ট্র আসলে চলতে পারে না। রাষ্ট্র একটি সম্মিলিত সরকারি দল, বিরোধী দল—সবার চিন্তা ও মেধা দিয়ে রাষ্ট্রকে পরিচালনা করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপির এই সাংসদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের দরকার কী? এটা বিলুপ্ত করে দেন।
নিখোঁজ ধর্মীয় বক্তা ত্ব–হাকে খুঁজে বের করা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করার দাবি জানান হারুনুর রশীদ।
হারুন বলেন, তিনি বিএনপি করলেও তিন বছরে কখনো বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কোনো কটূক্তি করেননি। সরকারের যেসব অর্জন, সেসবও অস্বীকার করার উপায় নেই।
বক্তব্যের শেষের দিকে হারুনুর রশীদ তাঁকে একটু সময় বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি বলেন, আমিই তো বিরোধীদলীয় নেতা।
এ সময় হইচই করে তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জাতীয় পার্টির সাংসদেরা। একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জাতীয় পার্টির সাংসদ মসিউর রহমান দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং হারুনের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
পরে স্পিকার বলেন, হারুনুর রশীদের ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করে দেওয়া হবে।
