জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।
গত কয়েক দিনে সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), শহীদ মিনার, বটতলা ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ সংলগ্ন সড়কে খানাখন্দে এবং সড়কের নিচু জায়গায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। উন্নয়নকাজের কারণে নিয়মিত ভারী যান চলায় বটতলা থেকে গেরুয়ার সংযোগ সড়কে ব্যাপক ক্ষতির কারণে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস কার্যক্রম চলছে। তবে টিউশনি ও চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছেন। ফলে ক্যাম্পাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরও যাতায়াত রয়েছে। বৃষ্টির কারণে সড়ক ও প্রবেশদ্বারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজের মালামাল পরিবহনে ভারী যানবাহন চলাচল করছে। গাড়িগুলোর ওজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কের ধারণ ক্ষমতার বেশি হওয়ায় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। আর বৃষ্টি হলেই সেসব খানাখন্দে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা এককথায় তথাকথিত উন্নয়নের ক্ষত। বিশ্ববিদ্যালয়কে সচল করার প্রস্তুতি হিসেবে রাস্তাঘাট মেরামত করার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান না করলেও শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আছেন, অফিস খোলা আছে। এ ছাড়া নানা কাজে শিক্ষার্থীদেরও ক্যাম্পাসে আসতে হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তাঘাট ঠিক করা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সালাম মো. শরীফ বলেন, আপাতত সড়কগুলোর খানাখন্দ ঠিক করে জলাবদ্ধতা নিরসনের চিন্তা নেই। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজের মালামাল স্থানান্তরে বিভিন্ন গাড়ি ব্যবহারে সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়নকাজ শেষ হলে সড়কের খানাখন্দ ঠিক করা হবে বলে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের উপপরিচালক প্রকৌশলী ফাহমিদা মাছউদ বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে আবাসিক হল নির্মাণকাজের মালামাল স্থানান্তরে ব্যবহৃত গাড়িগুলোর ওজন বেশি হওয়ায় রাস্তাগুলোর ক্ষতি হচ্ছিল। গত বছর রাস্তাগুলো মেরামত করার জন্য কনস্ট্রাকশন কোম্পানিগুলোর সাথে কথা বলেছিলাম। তারাও যে সড়কগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেগুলো মেরামত করেছিল। তবে এ বছর কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আমার জানা নেই।
