সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ায় ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিন চলছে। পিসিআর ল্যাব ও জেলা সিভিল সার্জনের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে ১৩৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম অবস্থা চিকিৎসকদের।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা রোগীর জন্য ১০০ বেডের বিপরীতে ১৩৭ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছে। এ মুহূর্তে শুধুমাত্র জরুরি সেবা ছাড়া হাসপাতালের সকল বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে শহরে ঢোকার প্রতিটি প্রবেশ মুখে বাঁশ বেঁধে ব্যারিকেড দিয়ে লকডাউন বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
লকডাউন কার্যকর করতে সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উল্লেখ্য, ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ায় ২০ জুন মধ্যরাত থেকে ২৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত ৭ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি দেয় জেলা প্রশাসন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে দেড় মাসের শিশুর দেহে করোনা সংক্রমিত হয়েছে। প্রিন্স নামের ওই শিশুটিকে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
শিশু প্রিন্স কুষ্টিয়া শহরের বড় স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী আকাশের ছেলে। আকাশ জানান, দেড় মাসের সন্তান প্রিন্স গত কয়েক দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টায় তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর সেখানে তার করোনার পরীক্ষার নমুনা নেয়া হয়। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরই শিশুটিকে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
করোনা ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইফতেখার হাসান জানান, দেড় মাসের শিশুর করোনা সংক্রমণের ঘটনা কুষ্টিয়ায় এই প্রথম। তিনি বলেন, শিশুটির জ্বর ও সর্দি আছে। এর বাইরে কোনো জটিল উপসর্গ নেই।
