সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাটে করোনার সংক্রমণ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। সংক্রমণ বাড়ায় মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। এছাড়া অবৈধভাবে ভারতীয় গরু সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন দেখা যায়, জয়পুরহাট শহরের নতুন হাটের পরিবর্তে বাইরে তিনটি স্থানে হাট বসাতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা থাকলেও তা না মেনে শহরে একটি পশুর হাটেই চলছে কেনাবেচা। হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।
জয়পুরহাটে বড় পশুর হাট মূলত দুটি। একটি শহরের মধ্যেই নতুনহাট ও অন্যটি পাঁচবিবি তিন মাথা এলাকায়। দুটি হাটই সীমান্তবর্তী এলাকায়। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সবসময়ের মতো এবারও এলাকায় ভারতীয় গরু সরবরাহ ও সেই সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আনাগোনা ব্যাপক বেড়েছে। তাদের মাধ্যমে এলাকায় করোনার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ইতিমধ্যে গত কয়েকদিনে শহরের নতুনহাটের আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকজন করোনায় মারা গেছেন। পাঁচবিবিতেও কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৬ জন। এর মধ্যে চলতি জুন মাসেই মারা গেছেন ১২ জন।
পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মো. শহীদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি মিটিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বলেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি পশুর হাটে ভারতীয় গরু সরবরাহের কারণে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। পশুর হাট বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। ইতিমধ্যে কয়েকদিনেই জয়পুরহাট ও পাঁচবিবিতে বেশ কয়েকজনের করোনায় মৃত্যু হয়েছে।’
পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনিরুল শহীদ মুন্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি জেলার মিটিংয়েও বলেছি দেশে কোরবানির গরুর জন্য পর্যাপ্ত দেশি গরু আছে। কিন্তু অবৈধ চোরাইপথে ভারতীয় গরু হাটগুলোতে তোলার কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।’
শহরের নতুন হাট তিনটি স্থানে বিভক্ত করে বসানোর প্রশাসনের নির্দেশনা কেন মানা হয়নি জানতে চাইলে হাটের ইজারাদার রজনী ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী কালীচরণ আগরওয়াল পরে কথা বলব বলে ফোনকল কেটে দেন।
সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াজেদ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে অবশ্যই করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাবে। পশুর হাটকে তিন স্তরে বিভক্ত করে বসানোর কথা। কিন্তু সেটা না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারের জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিনটি স্থানে হাট লাগানোর কথা বলা হয়েছে। তা কেউ না মানলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
