ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ বিএনপি নেত্রীর

আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ০৯:৫১ পিএম

ফেনীতে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পৌর বিএনপির এক নেত্রী। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে জেলা ছাত্রদলের এক নেতার (৩২) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদার দেওয়ার দাবি জানান ওই নেত্রী।

শনিবার রাতে তিনি বাদী হয়ে ছাত্রদল নেতাসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা কাজী নজরুল ইসলাম দুলাল ফেনী শহরের বিজয় সিংহ এলাকার মহিপাল কলেজ সংলগ্ন রুহুল আমিনের ছেলে। এজহারনামীয় অপর চার আসামি হলেন দুলালের বাবা রুহুল আমিন (৬০), দুলালেল মা মালেকা বেগম (৫০), দুলালের দুই ভাই মামুন (২৮) ও মিজান (২৫)।

মামলার এজহারে বাদী উল্লেখ করেন, ‘আমি শহরের একটি এসি মার্কেটে কাজ করি। গত দু’বছর ধরে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম দুলালের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। দুলাল তার দুটি ফোন নম্বর থেকে আমার ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে আমার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতো। এ সময়ে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেনী শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ও বন্ধুদের বাসায় নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে আসছিল।’

মামলার এজহারে বাদী আরো উল্লেখ করেন, ‘বিয়ের জন্য চাপ দিলে সম্প্রতি দুলাল বাদির শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়কের গাজী হোটেল সংলগ্ন নাছির ম্যানশনের বাসায় গিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে হুজুর ডেকে বিয়ে পড়িয়ে মৌখিকভাবে ২০ লাখ টাকা কাবিন করেন। এর পর গত ৬ জুন রাতে দুলাল বাদীর বাসায় গিয়ে স্বামীর অধিকার নিয়ে বাদীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরদিন ৭ জুন সকালে বাদীর বাসা থেকে দুলাল বেরিয়ে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলেন, সে বাদীকে বিয়ে করবে না এবং সামাজিক স্বীকৃতিও দেবে না, কাবিনের কোনো টাকাও বাদীকে দেবে না।’

এ ব্যপারে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম দুলাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘জেলা ছাত্রদলের আসন্ন কমিটিতে যেন গুরুত্বপূর্ণ পদে না আসতে পারি তার জন্য একের পর এক চক্রান্ত চলছে। এটিও চক্রান্তের একটি অংশ’।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজগর হোসেনকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত