গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়া এবং অভিজ্ঞতা সনদে সম্বোধনে ‘ভুলের’ অভিযোগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক তাদের দেওয়া শাস্তিকে ‘বিদ্বেষমূলক’ বলেও অবহিত করেছে।
গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে কুবি’র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহবুবুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে সিন্ডিকেট। আর অভিজ্ঞতা সনদে সম্বোধনের ‘ভুলের’ কারণে একই বিভাগের শিক্ষক কাজী আনিছের পদোন্নতি স্থগিত করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথ্য সরবরাহকারীকে চিহ্নিত করতে, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়। উল্লেখ্য উক্ত তদন্ত কমিটি তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে মাহবুবুল হক ভূঁইয়াকে চিহ্নিত করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এতে বলা হয়, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উক্ত পরিস্থিতির অবতারণা, তা সম্পর্কে জানা যায়- ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থী ভর্তিপরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও মেধাতালিকায় ১২তম স্থান অধিকার করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত প্রথম তদন্ত কমিটি ওই ঘটনায় ইউনিট কমিটির গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পায় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনায় দায়ীদের বিচারের উদ্যোগ না নিয়ে, বরং অত্যন্ত গাফিলতিপূর্ণ ও একইসঙ্গে অভাবনীয় এরূপ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ওই ঘটনা প্রকাশের তথ্যসূত্র বের করার জন্য ‘উচ্চতর তদন্ত কমিটি’ নামে দ্বিতীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।
এতে বলা হয়, তারা (কর্তৃপক্ষ) মনে করছে যেকোনো ধরনের অন্যায়-অসঙ্গতি সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্র হিসেবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়নি, বরং অসঙ্গতি প্রকাশে তাদের ভাবমূর্তি বেশি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
‘অথচ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়াটাই তাদের ভাবমূর্তির জন্য শ্রেয় হতে পারতো, যা তারা বিবেচনায় নেয়নি। এটি অস্বাভাবিক ও বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষের অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিতবাহী’ বিবৃতিতে যোগ করা হয়।
এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এহেন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পাশাপাশি এইরকম গর্হিত প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কাজী আনিছের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার সনদে সম্বোধনের স্থলে ‘To Registrar’ বদলে ‘To Whom It May Concern’ লেখা ছিল। এ জন্য পদোন্নতি স্থগিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অগণতান্ত্রিক ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ১৫৬ শিক্ষকের মধ্যে রয়েছে- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান ও ফাহমিদুল হক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাসির আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানস চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আরিফুজ্জামান রাজীব প্রমুখ।
