করোনা মহামারীতে স্কুল প্রাঙ্গণে বিয়ের অনুষ্ঠানের অনুমতি না দেওয়ায় নগরীর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার মামলায় এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ খান বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মো. হারুন (৫০) চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহসভাপতি।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অন্য আসামিরা হলোÑ হারুনের বড় ভাই মো. একরাম মিয়া (৫৫) ও জানে আলম (৫৭) এবং একই বাড়ির মো. প্রিন্স (৩৭) আল নাহিয়ান (২২), মো. মাসুদ (৩৮)।
পুলিশ জানায়, মনসুরাবাদ এলাকার একরাম মিয়া নামে এক ব্যক্তি মেয়ের বিয়ের জন্য অনুষ্ঠান করতে মনসুরাবাদ খান সাহেব আব্দুল হাকিম উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির সভাপতি বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজনের অনুমতি দিতে অপারগতা জানান। এরপরও ২৫ জুন বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় স্কুল প্রাঙ্গণে। বিয়ের দিন রাতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) গিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। এ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় হারুণ ও তার ভাইয়েরা।
ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, করোনার কারণে একরামের মেয়ের বিয়ের জন্য স্কুল প্রাঙ্গণ ব্যবহারের অনুমতি দেননি প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত লে.কর্নেল ইকবাল শফি। এরপরও ২৫ জুন স্কুলে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে তা প্রশাসন বন্ধ করে দেয়। এরপর একরাম প্রধান শিক্ষককে স্কুলে না আসার হুমকি দেন। পরে ৩০ জুন থানা শিক্ষা অফিসার ঘটনার তদন্তে গেলে হারুণ ও তার ভাইয়েরা কয়েকজন লোক নিয়ে প্রধান শিক্ষককে সবার সামনে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় মামলা করেন প্রধান শিক্ষক। পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হারুণকে, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
