সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বমুখী হলেও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার চিকিৎসা সেবার মান বাড়েনি। সক্ষমতা, আইসিইউসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা অনুষঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে বাইরে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাতে পারছেন না অনেকেই। এখন করোনা মহামারীর প্রকোপে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ।
গত রবিবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথাজনিত রোগীদের হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। করোনা সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। অতিমাত্রায় সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষের উপজেলার রোগী ও অভিভাবকরা।
হাসপাতালের কভিড ফোকাল পারসন ডা. মেজবাহ উদ্দিন জানান, কভিড মোকাবিলার জন্য হাসপাতালে ১৪ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ৫টি কেবিনের ব্যবস্থা রয়েছে। এক্স-রে মেশিন থাকলেও অপারেটর না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অক্সিজেন সিলিন্ডার, মাস্ক, পিপি ইত্যাদি অনুষঙ্গ রয়েছে। তবে পরিপূর্ণ চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার, লোকবল, আইসিইউ, এক্স-রে এবং এসবের ম্যানেজমেন্ট নেই। মৃদু থেকে মাঝারি উপসর্গের রোগীদের এই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ক্রিটিকেল হলেই কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে রেফার করা হয়।
চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টান হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানমতে, গত রবিবার পর্যন্ত ২ হাজার ৭৮২ জনের সংগৃহীত নমুনায় ৫৯১ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে বলে হাসপাতালের কভিড পরিসংখ্যান অফিস সূত্র জানিয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তী স্বীকার করেন, পূর্ণাঙ্গ কভিড চিকিৎসাব্যবস্থা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। আইসিইউর ব্যবস্থাও নেই। চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালে রোগীর চাপও তেমন নেই। অপর্যাপ্ত হলেও এখানে যা কিছু আছে তা নিয়েই উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কভিড মোকাবিলার কার্যক্রম চলছে।
