ঢাকার স্মৃতিতে দিলীপ কুমার

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ১০:০২ এএম

দুই যুগ আগে ঢাকায় এসেছিলেন কিংবদন্তি বলিউড অভিনেতা দিলীপ কুমার। সে স্মৃতি এখনো অনেকের মাঝে তাজা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে সময়ের ছবি মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে দিলীপ কুমার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।

১৯৯৫ সালে অভিনেতা ঢাকায় আসেন। অংশ নেন একাধিক অনুষ্ঠানে। তাকে সংবর্ধনা জানানো হয় এফডিসিতে। সে সময় দিলীপ কুমারকে এক নজর দেখতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।

এফডিসির ২ নং ফ্লোরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রির মহারথীরা। খান আতাউর রহমান, ওবায়েদ-উল-হক, চাষী নজরুল ইসলাম, আলমগীর, উজ্জ্বল থেকে বাংলাদেশের ‘পার্বতী’ কবরী ছিলেন ফুল ও ভালোবাসা নিয়ে। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট। তখনকার নবীন জুটি শাবনাজ-নাঈমসহ অনেকেই পেয়েছিলেন অভিনেতার সান্নিধ্য।

১৯২২ সালে পাকিস্তানের খাইবারে একটি মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন মুহাম্মদ ইউসুফ খান। যিনি বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে দিলীপ কুমার নামেই সর্বজন শ্রদ্ধেয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই অভিনেতা প্রতিবেশী ছিলেন আরেক কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কাপুর। ছোটবেলা থেকেই দু’জনের বন্ধুত্ব। বাবার সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে বাড়ি ছাড়েন দিলীপ কুমার। পরিচয় গোপন করে ক্যানটিন কন্ট্রাক্টরের কাজ করেন। পরে আর্মি ক্লাবে স্যান্ডউইচও বিক্রি করেন। এভাবেই ৫০০০ টাকা জমিয়ে মুম্বাই চলে আসেন।

অভিনেতা দিলীপ কুমারের বলিউডে প্রবেশ ১৯৪৪ সালে ‘জোয়ার ভাটা’ সিনেমার মাধ্যমে। তবে নায়ক হিসেবে তাকে পরিচিতি দেয় ১৯৪৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জুগনু’। তারপর থেকেই বলিউডে শুরু হয় দিলীপ কুমারের ‘নয়াদৌড়’। ‘মুঘল-এ-আজম’, ‘মধুমতী’ থেকে ‘ক্রান্তি’, ‘মশাল’, ‘কর্মা’, ‘সওদাগর’, ‘কিলা’ প্রায় পাঁচ দশক ধরে বলিউডে রাজত্ব করেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা। তিনিই প্রথম ছবি পিছু ১ লাখ টাকা করে পারিশ্রমিক নিতে শুরু করেন।

১৯৬৬ সালে প্রায় ২২ বছরের ছোট সায়রা বানুকে বিয়ে করেন দিলীপ কুমার। সেই থেকে দু’জনেই একে অপরের সঙ্গী। কারও প্রশংসা পেতে নয়, বরং দিলীপ কুমারের সেবা করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করেন সায়রা বানু, এমনই জানিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন দিলীপ কুমার। মুম্বাইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।

গত ২৯ জুন অভিনেতা দিলীপ কুমারকে হিন্দুজা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। এর ১৮ দিন আগে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছিলেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত