পার্বতীপুরে করোনার নিষেধাজ্ঞা মানছে না এনজিওগুলো

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২১, ১২:৪৫ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো (এনজিও)। বলা হয়েছে, ‘লকডাউনে’ জরুরি কাজ ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে পারবে না। কিন্তু পার্বতীপুরে কিছু এনজিও এ নির্দেশনা মানছে না। এমন পরিস্থিতিতেও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে এনজিওর ঋণ আদায় কার্যক্রম।

এতে এনজিওর ঋণগ্রহণকারী দরিদ্র মানুষ এখন পড়েছেন বিপাকে। প্রশাসন করোনা প্রতিরোধে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কিস্তি না  নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে বিভিন্ন এনজিও এবং সমবায় সমিতি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সরেজমিনে ওই এনজিওর মাঠকর্মীদের কিস্তি উত্তোলন করতে দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার সকালে এনজিও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে কিস্তির টাকা আদায় করতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের মাঝাপাড়া গ্রামের রিকশাচালক মানিক চন্দ্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে গ্রামীণ ব্যাংকে ৮০০ টাকা করে কিস্তি দিচ্ছি। তারা কোনো কথা কথাই শুনছে না। তারা রাতেও বাড়িতে পর্যন্ত আসছে কিস্তির টাকা নিতে। কয়েকটি এনজিওর ব্যবস্থাপক ও মাঠকর্মীরা মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে মাসিক ও সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা আদায় করছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ মিনার সড়কের এক ব্যবসায়ী বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে দেশ যখন আক্রান্ত সেই সময় এনজিও ‘সমতা ব্যবসায়িক সমবায় সমিতি’র মাঠকর্মীরা মাসিক ও সাপ্তাহিক কিস্তি আদায়ে ব্যস্ত। 

বিষয়টি নিয়ে সমতার মাঠকর্মী স্বপ্না বলেন, ঋণগ্রহীতারা তো নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের কমিটমেন্ট দিয়েই ঋণ নিয়েছেন। তাছাড়া সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধের সময় যাদের পার হয়েছে  কেবল তাদের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সমতা ব্যবসায়িক সমবায় সমিতির নির্বাহী পরিচালক বিভাষ কুমার দাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু করোনাকালীন সময়ে লোন প্রদান করছি। মাসিক ও সাপ্তাহিক কিস্তির কোনো টাকা আদায় করা হচ্ছে না’ বলে তিনি দাবি করেন। 

চন্ডিপুর ইউনিয়নে এনজিও কর্মীরা কিস্তি আদায়ের জন্য রাতেও ঋণগ্রহীতাদের বাড়িতে বাড়িতে অবস্থান করছেন। দিনমজুর ও  জেলে পরিবারকে কিস্তি পরিশোধে তাদের চাপ সৃষ্টি করতে দেখা যায়। কিন্তু এনজিও কর্মকর্তারা তা মানছেন না। কিস্তির টাকা পরিশোধে অনেকে অনীহা প্রকাশ করলে এনজিও কর্মীরা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। নতুন করে ঋণ নিতে অসুবিধা হবে বলেও সতর্ক করা হচ্ছে ওইসব এনজিওর পক্ষ থেকে। 

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিদ কায়সার রিয়াদ এ ব্যাপারে বলেন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত