আসামে নতুন বিল আনা হয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে, হিন্দু, শিখ এলাকা ও মন্দিরের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গরুর মাংস বিক্রি করা যাবে না।
ভারতীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে ডয়চে ভেলে জানায়, ভারতের রাজ্যটিতে ১৪ বছরের বেশি বয়সী গরু জবাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার এতে সন্তুষ্ট নন।
তার মতে, ১৯৫০ সালের আইন গো-রক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। তাই তিনি নতুন বিল নিয়ে এসেছেন। এতে বলা হয়েছে, হিন্দু ও শিখ বসতি এলাকা এবং কোনো মন্দিরের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গরুর মাংস বিক্রি করা যাবে না।
সোমবার ‘আসাম গো-রক্ষা বিল ২০২১’ বিধানসভায় পেশ করেন হিমন্ত। বিলে গরু জবাইয়ের পাশাপাশি মাংস খাওয়া, বেআইনি গরুপাচার বন্ধ করার কথাও বলা আছে। আর যে সব জায়গায় মূলত হিন্দু, শিখ ও জৈনরা থাকেন সে সব জায়গায় এবং মন্দিরের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গরুর মাংস বিক্রি করা যাবে না, কেনাও যাবে না।
ভারতের অনেক রাজ্যেই গরু জবাই বন্ধ করার আইন রয়েছে। কিন্তু মাংস কোথায় বিক্রি করা যাবে বা যাবে না তা নিয়ে এই প্রথমবার আইন করা হচ্ছে।
বিলে বলা হয়েছে, বৈধ নথিপত্র ছাড়া কোনো রাজ্য থেকে আসামে গরু আনা যাবে না, আসাম থেকেও কোথাও গরু নিয়ে যাওয়া যাবে না।
হিমন্ত আগে বলেছিলেন, বাংলাদেশে গরু পাচার রুখতে তিনি আইন করবেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে আসামের ২৬৩ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে।
এ নিয়ে আসাম বিধানসভার বিরোধী দল নেতা কংগ্রেসের দেবব্রত সাইকিয়া বলেন, “বিল নিয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গরুর মাংস নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। পাঁচ কিলোমিটার কীসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে? যেখানে ইচ্ছা পাথর ফেলে মন্দির বানিয়ে ফেলা যায়। এই বিলের ফলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়বে।”
অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) নেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, “মুসলিমদের মনে আঘাত করার জন্য এই বিল আনা হয়েছে। এর লক্ষ্য বিভাজন তৈরি করা। আমরা বিলের বিরোধিতা করছি।”
এ দিকে অসমিয়া প্রতিদিনের দিল্লির ব্যুরো চিফ আশিস গুপ্ত বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হয়েই হিমন্ত বিশ্বশর্মা সঙ্ঘ পরিবারের কোর এজেন্ডা রূপায়ণ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এই বিলও তার সেই চেষ্টার অঙ্গ।”
আরও বলেন, হিমন্ত গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করতে পারেননি। তা নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেছেন মাত্র।
১৯৫০ সালের আইনে বলা হয়েছিল, ১৪ বছরের বেশি বয়সী গরু, যা কাজ করতে সক্ষম নয়, তাদের জবাই করা যাবে। স্থানীয় পশু চিকিৎসকের কাছ থেকে গরু জবাই করা যাবে, এ মর্মে সার্টিফিকেটও নিতে হতো।
নতুন বিলে বলা হয়েছে, মোষ, বলদ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও সার্টিফিকেট নিতে হবে। পশু চিকিৎসককে বলতে হবে, যেগুলোকে জবাই করতে চাওয়া হচ্ছে, তা একেবারেই কাজ করতে পারবে না বা কোনো দুর্ঘটনার ফলে তার অঙ্গহানি হয়েছে ইত্যাদি।
