বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরছে জবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২১, ১২:৫৬ পিএম

ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ও বিআরটিসি থেকে ভাড়া নেওয়া বাসসহ মোট ২৩টি পরিবহনে ১৫০৭ জন শিক্ষার্থী শনিবার বাড়ি ফিরছে।

বাস ছেড়ে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক, প্রক্টরিয়াল বডি, পরিবহন প্রশাসক ও ছাত্র কল্যাণের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটের পরে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে বাসগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছে।

স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে ক্যাম্পাসে ঢোকানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি সবাইকে আবেদনের তালিকার সঙ্গে আইডি কার্ড ও ছাত্রত্বের প্রমাণ দেখে নিজ নিজ জেলার বাসে সিট নিশ্চিত করেন। বাস ছেড়ে যাওয়ার সময় অধিকাংশ বাসে সিট ফাঁকা ছিল।

জানা যায়, শাটডাউনের কারণে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আটকে পড়ে। আটকে পড়া  শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭-১৯ জুলাই দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাস দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শনিবার রাজশাহী, রংপুর, সিলেট বিভাগে বাস যাচ্ছে ও ১৮ জুলাই যাবে বরিশাল, খুলনা বিভাগ এবং ১৯ জুলাই যাবে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ বিভাগে।

রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলায় যাচ্ছে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, “লকডাউনের শুরু থেকে ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলাম পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারবো কি-না। পরে যানবাহন চালু করলেও শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটার ঝামেলা, টিকিট না পাওয়া ও টিকিটের দ্বিগুণ দাম সব মিলিয়ে হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। অবশেষে বাসায় যাচ্ছি ভার্সিটির বাসে। এ এক অন্যরকম ভালো লাগার অনুভূতি। অনেক ধন্যবাদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, “সকাল ৮টার পরে ৩টি বিভাগের বিভিন্ন রুটে গাড়ি যাচ্ছে। আজকে মোট ১৫০৭ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে মোট ২৩টি বাস যাচ্ছে ৩টি বিভাগে। এর মধ্যে ৬টি বাস বিআরটিসির, বাকিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। বাসে কোনো প্রয়োজন হলে হেলপারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে শিক্ষার্থীরা।”

জবি প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, “আমরা সকাল থেকেই চেষ্টা করেছি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুশৃঙ্খলভাবে যেন বাসে তোলা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন থানায় কথা বলা হয়েছে যেন আমাদের শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছাতে পারে।

বাস সার্ভিস সম্পর্কে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বলেন, “ঈদের আগে বাস ট্রেনের টিকিট পাওয়া কষ্ট। এ ছাড়া করোনার কথা ভেবে আমরা শিক্ষার্থীদের বাস দিয়েছি। তারা যেন বাসায় গিয়ে নিরাপদে থাকে বলে দিয়েছি।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত