ধর্ষণ মামলায় কারাগারে বিয়ে করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়া ফেনীর সেই দম্পতির সংসার কেমন চলছে তার খোঁজ নিয়েছে হাইকোর্ট।
জবাবে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন, তাদের দাম্পত্য জীবন ভালো চলছে। তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করছেন।
সোমবার এ মামলার আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী অন্য এক মামলায় শুনানি করছিলেন। এ সময় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম আইনজীবীর কাছে ওই দম্পতির খোঁজ জানতে চান। তখন ফারুক আলমগীর চৌধুরী বলেন, আমি মাঝেমধ্যেই ফোন করে তাদের খোঁজ নিই। তারা সুখে আছেন।
সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সুফিয়ানের ছেলে জহিরুল হক জিয়া তার প্রতিবেশী কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। গত বছরের ২৭ মে প্রেমিকা বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। পুলিশ জিয়া উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করে। পরে পুলিশ ৩০ জুন আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে।
গত বছরের ১ নভেম্বর আসামির পক্ষে আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে একটি দ্বৈত বেঞ্চে প্রেমিকা ধর্ষণে অভিযুক্ত হয়ে আটক জিয়াউল হক জিয়াকে বিয়েরর শর্তে জামিন দিতে সম্মত হয়। হাইকোর্টের আদেশ ১১ নভেম্বর জেলা কারাগারে পৌঁছায়।
বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে উভয়পক্ষ সম্মত থাকলে ফেনী জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ আদেশপ্রাপ্তির পর ১৯ নভেম্বর দুপরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামানের উপস্থিতিতে কারাবন্দী জহিরুল ইসলাম জিয়া ও প্রেমিকার ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়। ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী বিয়ে পড়ান মাওলানা আক্তার হোসেন। বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন নিকাহ রেজিস্টার আব্দুর রহিম।।
পরে বিচারপতির এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন কোর্ট থেকে জামিন পান ওই যুবক জহিরুল হক জিয়া ।
জহিরুল হক জিয়ার বাবা সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরদরবেশ গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে ছেলে ও পুত্রবধূ নিয়ে খুব ভালো আছি। তাদের মধ্যে কোনো দাম্পত্য কলহ নেই। আমাদের দুই পরিবারের মধ্যেই ভালো সম্পর্ক বিরাজ করছে।
ওই মেয়ের মা জানান, সুন্দরভাবেই সংসার করছে তারা। কোনো ধরনের কলহ আপাতত নেই। আমরা মাঝেমধ্যেই মেয়েকে দেখতে যাই।
দাম্পত্য জীবন কেমন চলছে জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ভালো আছি। শুরুতে কিছু ভুল-বোঝাবুঝির কারণে আমাকে জেলে যেতে হয়। এখন আমাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা নেই। আজীবনও আশা করি হবে না। আমাদের দাম্পত্য জীবন ভালো কাটার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চাই। আমার স্ত্রী ও আমার জন্য দোয়া করবেন ।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুজ্জমান ভুট্টু বলেন, দুপক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি, তারা ভালো আছেন। ছেলেমেয়ে ও তাদের পরিবারের মধ্যে কোনো ঝামেলা আমরা দেখিনি। আশা করব তারা বাকি জীবনও সুখে থাকবে।
