সিডিসির নতুন স্বাস্থ্য নির্দেশনায় পরিবর্তন

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:৫২ পিএম

করোনাভাইরাসের রূপান্তরিত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসতর্কতা নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত ২৭ জুলাই সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এক নির্দেশনায় আবার মাস্ক ব্যবহার করতে বলেছে। ইনডোরে, বিশেষ করে জনসমাগম হলে মাস্ক পরতে তারা আবার নির্দেশনা দিয়েছে। যেসব এলাকায় ডেল্টার সংক্রমণ বেশি, সেসব এলাকায় টিকাগ্রহণ করেছেন বা টিকাগ্রহণ করেননি; এমন সব লোককেই মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিডিসি স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষকে স্কুলগুলোয় স্বাস্থ্য নির্দেশনা কড়াকড়ি করার পরামর্শ দিয়েছে। স্কুলের অভ্যন্তরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিদর্শনে যাওয়া লোকজনকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টিকাগ্রহণ করা, না করা নির্বিশেষে সবাইকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরার জন্য বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোয় ব্যাপকভাবে ডেল্টা ধরনের সংক্রমণ হচ্ছে। অ্যারিজোনা ও ওয়াইওমিংয়ে নতুন সংক্রমণের হারকে উচ্চমাত্রার বলে চিহ্নিত করেছে সিডিসি। করোনার সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর দেশ যুক্তরাষ্ট্র। গত মে মাসে সংক্রমণের নিম্নহার বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে মাস্ক পরার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছিল। সিডিসি তখন বলেছিল, টিকাগ্রহণ করা হয়ে গেছে, এমন লোকজনের ঘরে মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই। ডেল্টা ধরনের সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসতর্কতায় এখন পরিবর্তন আনা হলো।

গত সপ্তাহান্তে সিডিসি ও হোয়াইট হাউজের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকের পর গতকাল পরিবর্তিত নির্দেশনার কথা জানান সিডিসির পরিচালক রোচেল ওয়ালেনস্কি। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি হালকাভাবে নেওয়া হয়নি। করোনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে উল্লেখ করে রোচেল বলেন, সবাই ক্লান্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে মানসিক সমস্যার চ্যালেঞ্জও এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বহু সংক্রমণ ও মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ বেসামাল হয়ে উঠেছে। রোচেল বলেন, স্বাস্থ্যসতর্কতার পরিবর্তিত নির্দেশ কোনো সুসংবাদ নয়। তা জেনেও এ নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা লোকজনকে জানাতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র উচ্চমাত্রার প্রত্যাশা ছিল যে, ব্যাপক টিকাদানের মধ্য দিয়ে এ গ্রীষ্মেই দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। হোয়াইট হাউজ ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের ৭০ শতাংশ লোকজনকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিল। কিন্তু তা অর্জিত হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত