সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার আসামি টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে দুদক।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।
দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৭ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেয়া এবং ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অন্যকে হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, গত সোমবার চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে চুমকি কারণ ও প্রদীপ কুমার দাশকে আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে ২৯ জনকে। তবে অভিযোগপত্র শুনানির তারিখ করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১), মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
সূত্রমতে, অভিযোগ পত্রে চুমকি কারণের নামে নগরীর কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটার ছয়তলা বাড়ি, পাঁচলাইশ থানার পশ্চিম ষোলোশহর এলাকার জমি, ৪৫ ভরি স্বর্ণেও গয়না, একটি কার ও মাইক্রোবাস এবং কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে সম্পদ বিবরণীতে প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কারণ নিজের মৎস্য ব্যবসার যে হিসেব উল্লেখ করে সম্পদ অর্জনের তথ্য দিয়েছিলেন, সেই আয়ের কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৩ আগস্ট দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল মামলায়। এর আগে গত ২৯ জুন দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের জব্দ করা সম্পত্তি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সম্পত্তি জেলা প্রশাসকদের জিম্মায় থাকবে বলে আদেশ দেন আদালত।
গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ওই ঘটনার পর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
