মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণে রাশ টানতে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টিকাদান কর্মসূচি চলছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের ১৮০টি দেশের ৪০০ কোটির বেশি মানুষ কমপক্ষে এক ডোজ করে টিকা পেয়েছেন। আর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ বয়স্ক মানুষ পেয়েছেন ফুল ডোজের টিকা। তবে আক্ষেপের বিষয়, টিকাকরণের বেশিরভাগই হয়েছে বিশ্বের ধনী দেশগুলোতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, প্রয়োগ করা টিকার ৭৫ শতাংশই হয়েছে বিশ্বের ১০ ধনী দেশে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য বলছে, এসব দেশে টিকাদানের বর্তমান গতি গরিব দেশগুলোর তুলনায় অন্তত ৩০ গুণ বেশি।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য বলছে, বিশ্বে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যে ৪০১ কোটির বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে চীনেই দেওয়া হয়েছে ১৬০ কোটি ডোজের বেশি। ভারতে দেওয়া হয়েছে ৪৫ কোটি, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪ কোটি, ব্রাজিলে ১৩ কোটি, জার্মানিতে ৯ কোটি, যুক্তরাজ্যে সাড়ে ৮ কোটি, জাপানে সোয়া ৮ কোটি, তুরস্কে ৭ কোটি, ফ্রান্সে প্রায় ৭ কোটি, ইতালিতে ৬ কোটি ৭ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১০০টির বেশি দেশে এখনো ১০ লাখ করেও টিকা দেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেছেন, টিকা দেওয়ার এই ব্যবস্থাকে ‘ভয়াবহ বৈষম্য’ বলে উল্লেখ করেছেন । তিনি বলেন, করোনার টিকা প্রয়োজনীয় উপাদান। কিন্তু বিশ্বে একে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়নি। নিম্ন আয়ের দেশের মানুষের মাত্র ১ শতাংশ এই টিকার একটি ডোজ পেয়েছেন। ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক বলেন, উচ্চ আয়ের দেশগুলোর অর্ধেক মানুষ করোনার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। অথচ কিছু ধনী দেশে এখন করোনার
তৃতীয় ডোজের কথা বলা হচ্ছে। এদিকে গরিব দেশগুলোর মানুষ এখনো টিকার একটি ডোজও পাননি।
টিকা উৎপাদন ও বিতরণে বৈশ্বিক উদ্যোগে বিশ্ব নেতাদের অর্থায়ন নিশ্চিত এবং বৈষম্য নিরসনের আহ্বান জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক।
তবে আশার কথা হচ্ছে গরিব দেশের এই সংকট কাটাতে আগামী ছয় থেকে সাত সপ্তাহের মধ্যে অনুদানের ২৫ কোটি ডোজ কভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাওয়ার আশা করছে ভ্যাকসিনের জন্য গঠিত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স।
গত বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এসব টিকার অন্তঃপ্রবাহ কোভ্যাক্সকে সহযোগিতার সবচেয়ে বড় একটি চালান। আর এ কর্মপরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের অতি দরিদ্র দেশগুলোর টিকা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ১৫ কোটি ২০ লাখ টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। বিশ্বের ১৩৭ দেশ ও ভূখণ্ডের মধ্যে এসব টিকা বিতরণ করা হয়।
বুধবার সাপ্তাহিক কার্যক্রম হালনাগাদ করে ডব্লিউএইচও জানায়, ইউএন ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিমের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তারা জানিয়েছে, কোভ্যাক্স কর্মসূচিতে ভ্যাকসিন অনুদান বৃদ্ধি করা হবে। এক্ষেত্রে আগামী ছয় থেকে সাত সপ্তাহের মধ্যে আরও ২৫ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
কোভ্যাক্স হচ্ছে ডব্লিউএইচও, গ্যাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপারেডনেস ইনোভেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে ইউনিসেফ ডেলিভারি ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণে তাদের ভ্যাকসিন সরবরাহ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে। কোভ্যাক্সের আওতায় বিশ্বের অতি দরিদ্র ৯২টি দেশকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এসব দেশে বিতরণ করা টিকার ব্যয় দাতা দেশগুলো পরিশোধ করে।
