পূর্ব জেরুজালেমে উচ্ছেদের মুখোমুখি হওয়া ফিলিস্তিনিদের একটি মামলার রায় দিতে চলেছে ইসরায়েলের আদালত। সে দিকেই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর।
বিবিসি জানায়, শেখ জাররাহ ৭০টির বেশি পরিবার ইসরায়েলের নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল। যেখানে তাদের বসতবাড়ি ত্যাগের কথা বলা হয়। সে আপিলের রায় হবে সোমবার।
নিম্ন আদালত বলেছিলেন, কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনিরা বসবাস করলেও ঐতিহাসিকভাবে জায়গাটি ইহুদি মালিকদের।
এ নিয়ে গত মে মাসে ইসরায়েল-গাজা বিরোধ চরমে ওঠে। ওই সময় দখল বিরোধী বিক্ষোভে হামলা করে ইসরায়েলি পুলিশ। সে সংঘাতে যোগ দেয় হামাস। ১১ দিনের সংঘাতে গাজায় ২৫৬ জন ও ইসরায়েলে ১৩ জন নিহত হয়। পরে যুদ্ধ বিরতির মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ দিকে শেখ জাররাহ’য় কোনো ধরনের উচ্ছেদ না চালানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এ ধরনের স্থানচ্যুতি যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে ইসরায়েল বলছে, শেখ জাররাহ’র বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নয়, ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের।
প্রায় ৩০ বছর আইনি প্রক্রিয়ার পর সোমবার উচ্চ আদালত শেখ জাররাহ’র বিরোধ নিয়ে রায় দেবে। যেখানে ইহুদিরা দাবি করছে, কয়েক দশক ধরে বসবাসের জন্য তাদের কোনো ভাড়া দেওয়া হয়নি। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা বলছেন, তারাই এ ভূমির মালিক। ১৯৪৮ সালে জর্ডান কর্তৃক এ অঞ্চলে তারা পুনর্বাসিত হন। এর দুই দশক পর অঞ্চলটি ইসরায়েল দখল করে নেয়।
ইসরায়েলি দখলদাররা ১৯৬৭ সাল থেকে এই এলাকায় ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে কমিয়ে নিজেদের জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। পাঁচ দশক ধরে শেখ জাররাহ ও তার সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠেছে। যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
ফিলিস্তিনিরা শেখ জাররাহ’র দখলকে ইসরায়েলের বৃহত্তর পরিকল্পনা অংশ হিসেবে দেখছে। যেখানে ফিলিস্তিনিরা স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানীর স্বপ্ন দেখে।
২০০৩ সালে একটি ইহুদি সংগঠন পুরো এলাকাটি কিনে ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করে।
