ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ বাড়ায় অক্সিজেন সংকটে রোগীর স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালে দেখা দিয়েছে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ নানা সংকট।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিনই করোনা রোগীর চাপ বাড়ছে। আইসিইউ ও সাধারণ ওয়ার্ডসহ কেবিনেও খালি নেই কোনো বিছানা। প্রতিদিনই বাড়াতে হচ্ছে বিছানার সংখ্যা।
করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন মহিউদ্দিন খান মুন জানান, করোনা রোগী বাড়ায় হাসপাতালের ১০ হাজার লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল অক্সিজেনে চাপ পড়েছে।
ফলে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতে পাইপ লাইন সংস্কারসহ অক্সিজেন ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়ে অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের আন্তরিকতায় সাধ্যমতো চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ সোমবার (২ আগস্ট) করোনা ইউনিটে নতুন ৬২ জন ভর্তিসহ ৫৫০ জন এবং আইসিইউতে ২৫ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
সূত্র জানায়, করোনা চিকিৎসায় বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলার একমাত্র ভরসাস্থল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কম খরচে এবং মানসম্মত চিকিৎসা পেতে করোনা আক্রান্ত রোগীরা এই হাসপাতালেই ছুটে আসেন।
জানা গেছে, অক্সিজেনের সিলিন্ডার নিয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। প্রতিটি ছোট সিলিন্ডার দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় সিলিন্ডারের অনেক ঘাটতি রয়েছে। এসব সিলিন্ডার রিফিলের জন্য পাঠাতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে। সড়কে যানজটের কবলে আটকা পড়ে সময়মতো এসব সিলিন্ডার রিফিলের পর হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। প্রতিদিন চার বার ট্রাকে করে এসব সিলিন্ডার আনা-নেয়া করতে হচ্ছে।
এদিকে, হাসপাতালের এমন পরিস্থিতির খবরে করোনা রোগীদের সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংস্থা।
এরই মধ্যে দুই হাজারের বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদানের পাশাপাশি রিফিল করার ব্যবস্থা এবং চিকিৎসক সংকট সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিয়োগকৃত ১৩ জন চিকিৎসকের বেতন-ভাতার দায়িত্ব নিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি, ময়মনসিংহ সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু ও ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিনুল হক শামীম সিআইপি, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-আইইবি ময়মনসিংহ কেন্দ্র, ময়মনসিংহ ক্লাব অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ রিফিলের জন্য যাতায়াত কাজে একটি ট্রাক সহায়তা দিয়েছে।
এ ছাড়াও ময়মনসিংহের প্রচার বিমুখ অনেক ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বাইপেপ মেশিন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ইনজেকশনসহ নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।
হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলুল কবীর জানান, সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহায়তা অব্যাহত থাকলে করোনা সংকট মোকাবিলা সহজ হবে। রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালে দেখা দিয়েছে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও অক্সিজেনসহ নানা সংকট।
তিনি আরো জানান, রোগী বাড়ায় ১০ হাজার লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন সেন্ট্রাল অক্সিজেন ভান্ডারে ঘাটতি পড়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সক্ষমতা ১০ হাজার লিটার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার লিটার করার জরুরি কার্যাদেশ দেওয়া হলেও কাজ শুরু করা হয়নি।
