শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার আজ

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২১, ১২:০৬ এএম

একটা সময় নিয়মিতই ক্রীড়াক্ষেত্রে সেরাদের পুরস্কৃত করত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ১৯৯০ সালের পর অবশ্য স্বীকৃতি প্রদানের এই আয়োজনটি আর করেনি তারা। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছর এই পুরস্কারটি নতুন নামে এ বছর থেকে প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন জাহিদ আহসান রাসেল। তারই উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে ক্রীড়া সংগঠক শেখ কামালের নামে আজ ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান রাখা ১০ ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানাবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী আজ। দিনটি জাতীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে তিন দশক পর দেওয়া হচ্ছে এই পুরস্কার। আজ সকালে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সাবেক তারকা ফুটবলার ও বাফুফের চারবারের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য হয়ে ভারতে ফুটবল খেলে মুক্তিযুদ্ধকালীন তহবিল গঠনে বড় ভূমিকা রাখেন সালাউদ্দিন। পরবর্তীকালে স্বীয় ফুটবলশৈলী দিয়েই জয় করে নেন লাখো ভক্তের হৃদয়। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল তারকার স্বীকৃতির পাশাপাশি ১৯৯৬ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক স্বীকৃতি স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয় তাকে। ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের সাধারণত ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ সম্মাননা জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয় না। কিন্তু শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কারের জন্য সালাউদ্দিনকে মনোনীত করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা গতকাল জাপানের টোকিও থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছেন জাহিদ আহসান রাসেল, ‘আজীবন সম্মাননা একটি বিশেষ ক্যাটাগরি। যে কারণে এর জন্য যেকেউই বিবেচিত হতে পারেন। যারা দীর্ঘদিন ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রেখেছেন তাদের মধ্য থেকেই একজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় চারজন ছিলেন। সালাউদ্দিন ছিলেন শহীদ শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শেখ কামালের ক্লাব আবাহনীতে দীর্ঘ সময় সালাউদ্দিন সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। পরবর্তীকালে আবাহনীকে কোচিংও করিয়েছেন। সব বিবেচনা করেই তাকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হচ্ছে।’

সালাউদ্দিনের মতো ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান রাখায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ২০০১ সালে সংস্থা হিসেবে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়। সেরা ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে আজ বিসিবিও পাচ্ছে শেখ কামাল পুরস্কার। এ ছাড়া আর্চার রোমান সানা, সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শীলা ও ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত স্বীকৃতি পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাওয়ায়। উদীয়মান ক্রীড়াবিদ হিসেবে যুব বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক আকবর আলী, আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ রহমান ও ফুটবলার উন্নতি খাতুন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। সেরা সংগঠক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের সভাপতি মনজুর কাদের ও কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্য শৈ ল হ্ন। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পুরস্কার পাচ্ছে ওয়ালটন এবং ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। দুটি পৃথক পৃথক কমিটি যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সাত ক্যাটারগিতে ১০ ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রত্যেককে পদকের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই পুরস্কারের পরিধি বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি।

এই পুরস্কারটি প্রতি বছর ৫ আগস্ট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রায় আট বছর আয়োজিত না হওয়া জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার একসঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি, ‘আমি যখন দায়িত্ব নেই তার আগের ছয় বছর পুরস্কারটা দেওয়া হয়নি। আমার সময়ের দু’বছর মিলিয়ে মোট আট বছরের পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা আমরা চূড়ান্ত করে ফেলেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন সময় দেবেন তখনই পুরস্কারগুলো প্রাপকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শেখ কামাল অডিটরিয়ামে সকালে হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন। তিনি জানান, এই অনুষ্ঠান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজ আবাহনী মাঠে শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে এবং বনানীতে তার কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা আয়োজন করবে। বিকেএসপি শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত