অনানুষ্ঠানিকভাবে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ০৮:৪১ পিএম

অনানুষ্ঠানিকভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মদিন পালন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তাদের অনেকে খালেদা জিয়াকে তার ৭৭তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। 

কেউ কেউ গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার গেটে নিজেদের নাম লিখে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে এসেছেন। 

পরিবারের সদস্যরা ফোন করে খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।  

বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে নেতাকর্মীরা নিজেদের নাম লিখে ফুলের তোড়া চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজার গেটে রেখে যাচ্ছেন। আমরা সেগুলো ভেতরে নিয়ে রাখছি। করোনার কারণে দলের নেতাকর্মীরা এবং পরিবারের সদস্যরা বাসভবনে আসছেন না।

তিনি বলেন, বিকালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফিরোজায় ফুলের তোড়া পৌঁছে দেন। এর পরপরই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা পৃথক পৃথকভাবে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তার বাসায় ফুল দিয়ে আসেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে তাদের কারো দেখা হয়নি। ফুল নিয়ে যারা এসেছিলেন তারা হলেন, সদ্য ঘোষিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীরসহ আরো অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবারের এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন,  করোনাভাইরাসের কারণে দলীয় চিকিৎসকদের অনুরোধে আমরা কেউ ফিরোজায় যাচ্ছি না। কোনো কেক কাটা হচ্ছে না। তবে ফোনে তাকে আমরা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও সন্তানরা ফোন করে খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।   

ছাত্রদলের কর্মসূচি ঘোষণা: খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ এক দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দেশের সব সাংগঠনিক উপজেলা, থানা, পৌর ও কলেজ ইউনিটে খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মাহফিল ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। 
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল ঘোষিত কর্মসূচি পালন করার জন্য সব ইউনিটের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন। 

রাজনৈতিকভাবে তুমুল সমালোচনার মুখে ২০১৬ সাল থেকে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের নিয়মে পরিবর্তন নিয়ে আসে বিএনপি। ওই বছর থেকেই তিনি আর কেক কাটেন না, কিংবা ঘটা করে দিবসটি পালনও করেন না। কেক কাটার পরিবর্তে মিলাদ মাহফিল ও জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত ছিল। তবে ২০১৯ সাল থেকে ১৫ আগস্টের পরিবর্তে ১৬ আগস্ট মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ বছরও গত বছরের মতো কর্মসূচি পালন করা হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। খালেদা জিয়ার বাবা এস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনী হলেও তিনি দিনাজপুরে বসবাস করতেন। খালেদা জিয়ার জন্মও সেখানে। তার মায়ের নাম তৈয়বা মজুমদার। ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বাংলা পিডিয়াসহ খালেদা জিয়ার জীবনীর ওপর রচিত কয়েকটি বইয়েও তার জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট উল্লেখ আছে।

রবিবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। 

এ সময় দলটির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাকে ভয় পায় বলেই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় সাজা দিয়ে হয়রানি করছে সরকার। 

সভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু এবং শহীদ জিয়া, মাওলানা মতীনসহ করোনায় মারা যাওয়া নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত