ফরিদপুরে বাড়ছে পদ্মার পানি, ৫ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২১, ০২:৪৩ পিএম

হঠাৎ করে গত ৩/৪ দিনের উজান থেকে নেমে আসা পানি ফরিদপুরের পদ্মায় এখন বিপদসীমার ২৫ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। এতে জেলার ৫ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে এ পানি। তলিয়ে যাচ্ছে ক্ষেতের ফসলসহ চরের রাস্তাঘাট।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার ডিগ্রীরচর ইউনিয়নের মোদনখালি এলাকার হাসেম খান ও সোকিনা বেগমের দম্পতি এখন ব্যস্ত তাদের গৃহপালিত গরু-ছাগলের খাবার সংগ্রহের কাজে। বাড়ির চারপাশে পানি উঠেছে, চরের যতটুকু উচু জায়গা ছিল সেটাও তলিয়েছে। তাইতো তাদের ভাবনা এখন প্রিয় পশুগুলোর খাবার নিয়ে। হাসেম-সোকিনার মতো চরাঞ্চলের অধিকাংশ পরিবারের একই সমস্যা বিরাজ করছে।

এই ইউনিয়নের (ডিগ্রিরচর) চেয়ারম্যান মেহেদী হাসার মিন্টু ফকির জানালেন, যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে চরের মানুষের চরাফেরা, পবাদি পশুর খাবারসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির হার যদি এভাবে থাকে তাহলে দুই/একদিনের মধ্যে অনেক পরিবারকে বেড়িবাঁধে নিয়ে আসতে হবে। তিনি দাবি করেন, তার ইউনিয়নের অধিকাংশ জায়গায় পানি উঠেছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের  নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, এভাবে পানি আরও দুই/তিন দিন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, জেলার মধুমতি ও আড়িয়াল খাঁর যেসব স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে সে স্থানগুলোতে আমরা বালু বস্তা ফেলার কাজ শুরু করেছি।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার দুইটি ইউনিয়নে মধুমতির ভাঙনের শিকার হচ্ছে দাবি করে ওই উপজেলার চেয়ারম্যান একেএম জাহিদ হাসান বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু থেকেই ভাঙন দেখা দিয়েছে মধুমতিতে।

তিনি বলেন, স্থানীয় এমপি মনজুর হোসেনসহ জেলা প্রশাসক ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তাদের স্থানীয়রা দাবি করেছে ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের।

এদিকে পানিবন্দি মানুষের বিষয়ে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। যেখানে খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হবে সেখানেই পৌঁছে যাবে প্রয়োজনীয় দ্রব্য।

আমরা এই মৌসুমের পানির কথা বিবেচনা নিয়ে আগে থেকে প্রস্তুতি রয়েছে। যে কোনো সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত