দেশের বাজারে চালের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে রেয়াতি শুল্ক মূল্যে বেসরকারি পর্যায়ে ভারত থেকে চাল আমদানির জন্য হিলি স্থলবন্দরের দুজন আমদানিকারক মোট ৮ হাজার মেট্রিকটন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছেন।
চাল আমদানির জন্য আরও অনেকেই আবেদন করেছেন তাদের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া গত ১৭/১৮ আগষ্ট তারিখের দুটি বরাদ্দ পত্র অনুযায়ী হিলি স্থলবন্দরের দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রেয়াতি শুল্ক মূল্যে চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে ইউনাইটেড রাইস মিল ৫ হাজার টন ও রকি এন্টারপ্রাইজ ৩ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, দেশের বাজারে চালের মূল্য সহনশীল পর্যায়ে রাখতে চালের আমদানি শুল্ক ৬২.৫ ভাগ থেকে কমিয়ে ১৫ ভাগ নির্ধারণ করেছে সরকার।
চালের আমদানি শুল্ক হার কমিয়ে দেওয়ায় ভারত থেকে চাল আমদানির লক্ষ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন হিলি স্থলবন্দরের বেশ কয়েকজন আমদানিকারক।
সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই হিলি স্থলবন্দরের দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মোট ৮ হাজার মেট্রিকটন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে।
যেহেতু আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ ছিল, সে কারণে বাকিদের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে এসংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এতে করে আরও আমদানিকারক চাল আমদানির অনুমতি পাবেন।
তবে ইতিমধ্যেই যারা চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছেন তারা চাল আমদানির লক্ষ্যে আইপির জন্য আবেদন করেছেন, আইপি হাতে পাওয়ার পর তারা চালের জন্য এলসি খুলবেন। সকল প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে ভারত থেকে দেশে চাল আমদানি শুরু হতে পারে। আর বন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হলে দেশের বাজারে চালের মূল্য নিয়ে যে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে সেটি কমে আসবে।
প্রসঙ্গত, দেশের বাজারে চালের দাম বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেসরকারি পর্যায়ে ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতি প্রদানের সিন্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার।
একই সাথে চালের আমদানি শুল্ক ৬২.৫ ভাগ থেকে কমিয়ে ১৫ ভাগ নির্ধারণ করে গত ১২ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। সেই সাথে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি প্রদানের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে চালের আমদানি শুল্ক ৬২.৫ ভাগ নির্ধারণ থাকায় চাল আমদানিতে পড়তা না থাকায় ৩০ এপ্রিল থেকে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা।
