আফগান শরণার্থী ঠেকাতে গ্রিস সীমান্তে ৪০ কিমি দেয়াল

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২১, ১১:৫১ এএম

আফগান শরণার্থীদের আটকাতে তুরস্ক সীমান্তে ৪০ কিলোমিটার লম্বা দেয়াল তুলেছে গ্রিস। অবশ্য ৪০ লাখ শরণার্থীর দেশ তুরস্কও সীমান্তে কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিয়েছে।

গ্রিস সরকারের ধারণা, তুরস্ক হয়ে প্রচুর মানুষ আফগানিস্তান থেকে তাদের দেশে ঢোকার চেষ্টা করবে।

দেশটির নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রবিবার জানানো হয়, অদূর ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা এখন থেকেই সীমান্তে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। তোলা হয়ে গিয়েছে প্রাচীরও।

তবে গ্রিস কঠোর ব্যবস্থা নিলেও ইউরোপের বাকি কয়েকটি দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অবস্থান আগে ভাগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে। পরিস্থিতি আঁচ করে চলতি মাসের গোড়াতেই আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর শরণার্থীদের জন্য পি-টু (প্রায়রিটি টু) নীতি ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, আফগানিস্তান থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার শরণার্থী আমেরিকায় থাকার অনুমতি পেতে পারেন। যারা এত বছর আমেরিকান বাহিনীকে সে দেশে নানাভাবে সাহায্য করেছেন, জো বাইডেন প্রশাসন আপাতত তাদেরই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

কাবুলের পতনের এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৮ হাজার মানুষকে নানান গন্তব্যে সরিয়ে নিয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো আশ্বাস দিয়েছেন, তারা আপাতত ২০ হাজার করে আফগান শরণার্থীকে নিজেদের দেশে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত। ব্রিটেনের বরিস জনসন সরকারও জানিয়েছে, তারা প্রথম বছরে পাঁচ হাজার আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে।

চলতি বছরের প্রথমার্ধেই সাত হাজার আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেয় গ্রিস, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালির মতো ইউরোপের কিছু দেশ। গ্রিস এখন দেয়াল তুললেও ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, সুইডেনের মতো দেশগুলো কিছু সংখ্যক আফগান নাগরিককে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘ জানায়, ২০১৫ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে কমপক্ষে ৯ লাখ শরণার্থী ঢুকেছিল ইউরোপের বিভিন্ন শহরে। ছোট ছোট নৌকায় সমুদ্র পেরোতে গিয়ে ডুবে বা অন্য কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল অন্তত সাড়ে তিন হাজার মানুষের। গত সপ্তাহে আফগানিস্তানে আশরফ গনি সরকারের পতনের পর সতর্ক হয়ে যায় অনেক দেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত