টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাঞ্চল্যকর ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সুজন হত্যা মামলার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত, আসামি পক্ষের দায়ের করা মিথ্যা মামলা ও হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে মধুপুর প্রেস ক্লাবে নিহত সুজনের পরিবার ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
এ সময় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মামলার বাদী ধলপুর গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীন।
তিনি বলেন, তার ভাই সুজন মিয়া একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। একই গ্রামের কাজিম উদ্দিনের ছেলে মহির উদ্দিনের সাথে বিদ্যুতের মিটার সংযোগ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই কথা-কাটাকাটির জের ধরে গত ৩ জানুয়ারি একই গ্রামের রেজাউল করিম (৩৫), মো. উজ্জল মিয়া (৩২), মো. শামীম (৩০), মো. ইউসুব আলী (৫০), মো. ইয়ামিন (২৮), মহির উদ্দিন (৫০), বাদশা মিয়া (৫৫), মো. রাসেল (২২), মো. সেলিম মিয়া (৩০), রুহুল আমিন (২৬), জয়নাল আবেদীন (৪৬), রেজিয়া বেগম (৪৫) ও বোয়ালী গ্রামের আ. জলিলসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে। এ বিষয়ে মধুপুর থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি বলেন, ‘মামলার আসামিদের মধ্যে বর্তমানে পাঁচজন জেল-হাজতে রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুপুর থানার এসআই আল আমিন (বর্তমানে কালিহাতী থানায় কর্মরত) তদন্ত শেষে ৭ জনকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে বাদীর অভিযোগ যথাযথভাবে উপস্থাপন না হওয়ায় তিনি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন।’
আদালত নারাজি গ্রহণ করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়।
বাদী আরও বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে সঠিকভাবে তদন্ত না করে এজাহারভুক্ত আসামিদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেছেন। বর্তমানে বাদ পড়া আসামিরা নানাভাবে হুমকি- ধামকি দিচ্ছে। আসামিরা সুজন হত্যা মামলার বাদী পক্ষকে চারটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে নিহত সুজনের বাবা নজর আলী, মাতা ফাতেমা, বোন চায়না বেগম, ভাই দুলাল, আয়নাল হকসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
