অসহায় মানুষের পাশে বীথি ও একটি স্বপ্নপূরণের গল্প

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২১, ০৬:৫৮ পিএম

রংপুরের অজপাড়াগাঁয়ে বেড়ে ওঠা এক স্বপ্নবাজ কিশোরী আরিফা জাহান বীথি। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও চলমান মহামারী পরিস্থিতিতে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য নজির গড়েছেন। তার সঙ্গে একাত্ম হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা খেলোয়াড়রাও। এরপর ঘটে গেছে আরও অনেক নাটকীয় ঘটনা। এসব নিয়ে লিখেছেন জুনায়েদ হাবীব

আরিফা জাহান বীথি

আরিফা জাহান বীথি রংপুরের মেয়ে। তারকা ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলেন তিনি। স্বপ্নবাজ এ কিশোরী  জাতীয় দলে খেলার সুযোগ না পেলেও খেলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, ঢাকা প্রথম বিভাগ ও রংপুর বিভাগের হয়ে। ২০১৭ সালে একটি ইনজুরির কবলে পড়ে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায় তার। ছেড়ে দিতে হয় জীবনের সঙ্গে একাকার হয়ে যাওয়া ক্রিকেট খেলাটিকেও। তবে, খেলা ছাড়লেও ক্রিকেটের সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। গড়ে তুলেছেন ‘ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। নারীদের বিনামূল্যে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ দেয় এই একাডেমি। যে স্বপ্ন ভেঙে গেছে তার বীজ নতুন করে বুনতেই এমন উদ্যোগ বীথির। প্রথমে ১৫০ জন নিয়ে তিনি যাত্রা শুরু করলেও এখন প্রায় আড়াইশ নারীকে বিনামূল্যে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বীথির অ্যাকাডেমি।

এ প্রসঙ্গে বীথি বলেন, ‘২০১৭ সালে যখন আমি ক্রিকেট থেকে অবসর নিই তখন থেকে মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়ি। ক্রিকেট নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছি। ভালোবাসার সেই জায়গা থেকে ফিরে আসা আমার জন্য সত্যিই অনেক কষ্টের ছিল। যেহেতু ক্রিকেটকে নিয়েই থাকতে চাই তাই সিদ্ধান্ত নিলাম মেয়েদের নিয়ে একটি ক্রিকেট একাডেমি খুলব।’

বীথি স্বপ্ন দেখেন এ একাডেমিতে নারীদের ক্রিকেট শেখানোর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলবেন। তার স্বপ্ন, আগামী পাঁচ বছরে তার একাডেমি থেকে ৫ জন নারী জাতীয় দলে খেলবেন এবং দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবেন।

 

রংপুরেই বেড়ে উঠেছেন বীথি। স্কুলে পড়া অবস্থায় প্রথমে অ্যাথলেটিক্স ও পরে স্কুলের ক্রিকেট টিমে যোগ দেন। আন্তঃস্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে ম্যাচের শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত খেলে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন।

 

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘রংপুর ক্রীড়া অফিস থেকে রংপুর জেলা টিমের জন্য আমাদের স্কুলে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানকার কোচ আমাকে জেলা টিমে পরীক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান। সেই পরীক্ষায় আমি উত্তীর্ণ হই।’

 

এভাবেই শুরু হয় ক্রিকেটের সঙ্গে পথচলা। ২০১২ সাল থেকে তিনি পেশাদার ক্রিকেটে যোগ দেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, ঢাকা প্রথম বিভাগ, ওরিয়ন স্পোর্টিং ক্লাব, কলাবাগানসহ রায়েরবাজার দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হয়ে খেলেছেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৭ সালে ইনজুরির কবলে থমকে যায় বীথির ক্রিকেট ক্যারিয়ার।

 

অসহায়ের পাশে অধরা স্বপ্নের স্কুটি

চলমান মহামারী পরিস্থিতিতে অসহায় শিশু ও গর্ভবতী নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বীথি। তার এমন মহৎ উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন দেশের অনেক খ্যাতিমান তারকাও।

করোনাভাইরাসের প্রকোপে যখন থমকে গেছে পুরো দেশ, তখন সব ভয়কে উপেক্ষা করে খাবার নিয়ে অসহায় মানুষদের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন বীথি। নিম্নআয়ের পরিবারে যেখানে নিজেদের সচ্ছল রাখতে গিয়েই চিন্তায় পড়তে হয় সেখানে তার হাত ধরে মানবতার এক গল্প রচিত হয়েছে। তার মহৎ এ কর্মকাণ্ডের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। তবে আড়ালেই রয়ে যায় এ তরুণীর মমস্পর্শী এক ঘটনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক তার আদ্যোপান্ত।

ছোটবেলায় বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ছিল অনেকটা। এই পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য একটি সাইকেলই প্রয়োজন ছিল বীথির। সংসারের টানাপড়েনে তার বাবা কিনে দিতে পারেননি সেই সাইকেল। তাই স্কুল থেকে গ্রামের মেঠোপথ হেঁটে বাড়ি ফেরার অক্লান্ত পরিশ্রম প্রতিদিনই করতে হতো তাকে। এভাবেই চলছিল বীথির দিনলিপি। সাইকেল কিনতে না পারলেও সেই সময় থেকেই স্বপ্ন দেখতেন, একদিন একটি স্কুটি কিনবেন তিনি। তাই একটু একটু করে প্রতিদিন তিনি টাকা জমাতেও শুরু করেন। কোচিং করে যা আয় হতো তার পুরো অংশটিই সঞ্চয় করতেন। এভাবেই পেরিয়ে যায় বছরের পর বছর। একদিন সেই জমানো টাকার বাক্স খুলে গুনে দেখেন প্রায় ৯০ হাজার টাকা!

এবার স্কুটি কেনার স্বপ্নটিকে যখনই তিনি ছুঁতে যাবেন, তখনই দেশের মাঝে নেমে আসে ভয়াল কালো মেঘ। করোনা সংক্রমণের এমন প্রকট পরিস্থিতিতে তিনি এত টাকা দিয়ে আপাতত স্কুটি না কেনার সিদ্ধান্ত নেন। দেশের কোটি কোটি মানুষ যখন লকডাউনের কারণে বাড়ির ভেতরেই বন্দি, তখন বীথি ভাবলেন আশপাশের মানুষের কথা। মাথায় চিন্তা চাপল অসহায় দরিদ্রদের পাশে নিজেকে শামিল করার কথা। প্রথমবার বাসায় নিজ হাতে খিচুড়ি রান্না করে ৫০ জন অসহায়ের মাঝে বিতরণ করেন তিনি।

এ উদ্যোগ সম্পর্কে বীথি বলেন, ‘বাংলাদেশে মহামারী পরিস্থিতিতে অনেক মানুষই খাদ্য সংকটে পড়েছেন। তাই আমি এমন কিছু মানুষকে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। প্রথমে বাসায় নিজ হাতে খিচুড়ি রান্না করে পথের নিরন্ন মানুষের মধ্যে সে খাবার বিতরণ করি। তারপর ভাবলাম, আমার জমানো কিছু টাকা যেহেতু আছে, সেই টাকা দিয়ে অসচ্ছল পরিবারের জন্য খাবারের জোগান দেওয়া যাবে। এমন চিন্তা থেকেই ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিই- যদি কেউ খাবারের সংকটে থাকে তাহলে নিঃসংকোচে যেন আমাকে মেসেজ করে। ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পরপরই অনেকেই আমাকে মেসেজ পাঠানো শুরু করে। ওই সময় একজন গর্ভবতী নারী আমাকে ফোন করে সাহায্য চান। তখনই আমি গর্ভবতী মায়েদের কষ্ট অনুভব করতে পারি। এমনিতেই আমাদের দেশের নারীরা গর্ভকালীন পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার পান না। আর এখন চলমান দুর্যোগে অনেক পরিবার আয়-রোজগার হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় গর্ভবতী মায়ের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তাই স্কুটি কেনার কথা মাথা থেকে সরিয়ে জমানো সব টাকা দিয়ে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যসামগ্রী কেনা শুরু করি। জমানো টাকা সব ব্যয় করার সিদ্ধান্ত ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত। মনকে তীব্র শক্ত করে তুলেছিলাম তখন।’

এভাবেই কাঁপা কণ্ঠে অব্যক্ত কথাগুলো বর্ণনা করছিলেন বীথি।

‘এক কলেই রংপুরের গর্ভবতী মায়েদের ঘরে খাবার পৌঁছে যাবে। আর গোপন রাখা হবে সেসব মায়ের পরিচয়’- এমন আহ্বান জানিয়ে একটি ব্যানার সংবলিত পিকআপ নিয়ে ফোনকলের ঠিকানাতে ছুটে যেতে থাকেন তিনি। গত এপ্রিল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার গর্ভবতী মায়ের কাছে খাবার পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এটুকুই নয় শুধু। করোনার নিদানকালে বিপদগ্রস্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া নবজাতক শিশুদের কথা ভেবে নিডো, সেরেলাক নিয়ে তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন এসব।

আর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৩৮০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন। এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুদান চেয়ে একটি তহবিলও গঠন করেছেন।

ফোনের ওপাশে কে

তখনো পুরো উদ্যমে গর্ভবতী নারীদের জন্য খাবার নিয়ে সড়কপথে চষে বেড়াচ্ছেন মাইলের পর মাইল। কখনো নদীপথেও ছুটে যাচ্ছেন। হঠাৎ একদিন অচেনা এক নম্বর থেকে কল এলো। বীথির জন্য এটি নতুন নয়, বরং অভ্যস্তই হয়ে উঠেছেন। কারণ প্রতিদিনই খাবার চেয়ে অন্তত ৪০-৫০ বার এমন অচেনা নম্বর থেকে কল আসে।

বীথি অচেনা নম্বরটি রিসিভ করতেই তার শরীর শীতল হয়ে আসে। ফোনের ওপাশ থেকে কল করা ব্যক্তি একটু গম্ভীর স্বরে বলে উঠলেন, ‘আমি ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, কী অবস্থা বীথি?’

প্রিয় তারকার কণ্ঠ শুনেই ভড়কে যান বীথি। পরে তামিম ইকবাল বিথীকে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১৫০ জনের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ওয়ানডে ক্যাপ্টেন ও জনপ্রিয় তারকার এভাবে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসা বীথির উদ্যম আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ‘তামিম ইকবালের মতো একজন মানুষ আমার কর্মকাণ্ড দেখে নিজ থেকে এভাবে সহায়তা করছেন, এটাই ছিল পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৈশ্বিক ক্রান্তিলগ্নে বীথির অসাধারণ কর্মকাণ্ড সর্বোচ্চ প্রশংসার দাবি রাখে। আমি তার ব্যাপারে জানতে পেরেই তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে ছোট পরিসরে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি; যা আমাদের সবারই দায়িত্ব। তাই এ নিয়ে কথা বলতে চাই না। আসলেই তার নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধ থেকে সবার অনেক কিছু শেখার আছে।’

দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে সবাইকেই মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জাতীয় দলের ওয়ানডে ক্যাপ্টেন। তামিম ইকবালের পক্ষ থেকে আসা ১৫০টি পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন করার পরপরই এক বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রতিবেদন করা হয় তাকে নিয়ে। সেখান থেকে ব্যাপারটি নজরে আসে জাতীয় দলের আরেক তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ রুবেলের। তিনিও তাৎক্ষণিক এগিয়ে এসে ৫০টি পরিবারের খাদ্যসামগ্রী বীথির হাতে তুলে দেন।

বীথি বলেন, ‘তারা ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে এখন নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছি।’

লাল টকটকে স্কুটি

গত ১০ জুন বিথীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় রেডিও উপস্থাপক আরজে এহতেশাম। মানবিক কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে তিনি বীথিকে আমন্ত্রণ জানান ইগলু আয়োজিত লাইভ-শো ‘তুমি চাইলেই হাসবে দেশ’ অনুষ্ঠাটিতে। ভিডিও কলের মাধ্যমে ১২ জুন লাইভ অনুষ্ঠানটিতে বীথির সঙ্গে যুক্ত হন ইগলু আইসক্রিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামরুল হাসান। বীথি তার স্বপ্নের কথা ও মানবতায় বুক চিতিয়ে দেওয়ার অনুভূতি জানালে কামরুল হাসান তাকে উপহার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু এই ঘটনাটি আরও বহুদূর গড়াল। ১৬ জুন রাত ১০টায় ‘তুমি চাইলেই হাসবে দেশ’-এর বিশেষ পর্বে বীথিকে ভিডিও কলের মাধ্যমে লাইভ অনুষ্ঠানটিতে আবারও আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই পর্বেও আরজে এহতেশামের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে বীথির সঙ্গে যুক্ত হন ইগলুর প্রধান নির্বাহী কামরুল হাসান। লাইভটি শুরু হওয়া মাত্রই সরাসরি সম্প্রচারে অংশ নেয় দেশের একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল। তখনো সেই লাইভে হাজার হাজার দর্শকের চোখ আটকে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যে বীথির সঙ্গে কী ঘটতে চলেছে তা কেউ জানত না। হঠাৎ করে উপস্থাপক বীথিকে তার বেডরুম থেকে বেরিয়ে বাড়ির মূল ফটকের সামনে যেতে বললে তিনিও বিব্রত হয়ে পড়েন। কথামতো রুম থেকে বের হয়ে সামনে যেতেই বীথির চোখ আটকে যায় লাল টকটকে ব্র্যান্ড নিউ একটি স্কুটির দিকে। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে সম্ভিত ফিরে পান তিনি। স্কুটির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাঁয়ের প্রায় ৩০-৪০ জন মানুষ করতালি দিতে থাকেন। অন্যদিকে লাইভে উপস্থাপক গলার জোর শক্তিতে বলে ওঠেন, ‘বীথি আপনার সেই স্বপ্নটিই পূরণ হতে চলেছে, আপনাকে স্কুটি উপহার দিয়ে জনাব কামরুল হাসান আপনাকে সারপ্রাইজ দিয়েছেন’। কথাগুলো বীথির কানে যেতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার এ স্বপ্নটির রূপকার কামরুল হাসান ও অনুষ্ঠান সঞ্চালকের চোখও ভিজে ওঠে। টেলিভিশনে হৃদয়কাড়া এই দৃশ্যটিতে চোখ রাখা হাজারও দর্শকের প্রাণ শীতল হয়ে যায় মুহূর্তেই।

এ প্রসঙ্গে ইগলু আইসক্রিমের সিইও কামরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রথম লাইভে যখন তার স্বপ্নভঙ্গের কথা জানতে পারি, সেদিন আমি ঠিকভাবে রাতে ঘুমাতে পারিনি। তার স্কুটি কেনার ৯০ হাজার টাকা অসহায়দের পেছনে খরচ করেছে এটা আমার কাছে একটি অস্বাভাবিক কাজ মনে হয়েছিল। পরদিন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বীথিকে একটি স্কুটি উপহার দেব। তাই আমার ছোট সন্তানদেরও যখন বিথীর কথা বললাম, তারাও তাদের জমানো ১০ হাজার টাকা দিয়ে দিল। আমার আরও কিছু সহকর্মী সহায়তা করেছেন এই স্কুটির জন্য।’

আশপাশের অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য সমাজের অবস্থাসম্পন্ন মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বীথি।

তিনি বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। আমাদের আশপাশের মানুষেরা ঠিকমতো খেতে পারছেন কি না এ ব্যাপারে আমাদের খোঁজ নেওয়া উচিত। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন পড়ে না, কেবল সামান্য ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন হয়। যদি এ ইচ্ছাশক্তি সবার মাঝে কাজ করে তবেই আমাদের সমাজে সবাই মিলেমিশে ভালো থাকতে পারব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত