কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোগীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দি পৌরসভার ঢাকারগাঁও সরকার বাড়ির সাত্তার সরকারের স্ত্রী নার্গিস বেগম (৪৯) চিকিৎসার জন্য গত ১৪ আগস্ট শহিদনগর বাসস্ট্যান্ডে পল্লী চিকিৎসক হারুন উর রশিদের চেম্বারে যান।
এলার্জি জনিত সমস্যার কথা বললে তাকে ইনজেকশন দেয়ার কথা বলেন হারুন। ইনজেকশন নিতে অপরাগতা করলে রোগী এবং সাথে থাকা তার মেয়ে তানজিলা বেগমের সাথে খারাপ আচরণ করেন হারুন।
একপর্যায়ে কথা বলার ফাকে বোরকা এবং কাপড়ের উপর দিয়েই ইনজেকশন পুশ করে দেন পল্লী চিকিৎসক হারুন। তিনদিন পর নার্গিস বেগমের হাতে ব্যথা এবং ফুলে যায়। এরপর আবার ওই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ব্যথার ওষুধ খেতে দেন।
নার্গিস বেগমের মেয়ে তানজিলা আক্তার বলেন, আমরা না করার পরও কোনো রকমের পরীক্ষা ছাড়াই সে মায়ের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে দেয়। মায়ের হাতে যেখানে ইনজেকশন দিয়েছে এখন সেখানে পচন ধরে গেছে। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অপারেশন করার কথা বলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শহিদ নগর বাস স্ট্যান্ডে ‘মেসার্স শাহজাহান মেডিকেল হল’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি বেড বসিয়ে চেম্বার করে রোগী দেখেন পল্লি চিকিৎসা হারুন উর রশিদ।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, কোথায় কি হয়েছে এখন আমার উপর দায় চাপাতে চাইছে। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
স্থানীয়রা জানান, পল্লী চিকিৎসকদের হাতে গ্রামের গরীব রোগীরা প্রায় প্রতারণার স্বীকার হচ্ছেন। কিছুদিন আগে বিল্লাল হোসেন নামে এক পল্লী চিকিৎসককে ম্যাজিস্ট্রেট আটক করলে মুচলেকার মাধ্যমে ছাড়া পান।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শহিদুল ইসলাম শোভন বলেন, এ ঘটনার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডা. সিনথিয়া তাসমিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
