ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠের ভয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে চায় সরকার: আনু মুহাম্মদ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩২ পিএম

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বরকে সরকার ভয় পায় দাবি করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, এ জন্য তারা (সরকার) যতদিন সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে চায়।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যের সামনে “সবকিছু খোলা রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ কেন?” শিরোনামে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন আয়োজিত ‘সর্বজন শুনানিতে’ তিনি এ কথা বলেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, “করোনার কারণে অনেক শিক্ষক পেশা পরিবর্তন করেছেন, শিক্ষার্থীরা শিশুশ্রমে যুক্ত হয়েছে। যাদের সন্তানরা দেশে পড়াশোনা করছে না, তারাই নিজেদের স্বার্থে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখছে। সরকার তরুণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বরকে ভয় পাই বলেই যতদিন পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে চায়।”

শুনানিতে কয়েকটি প্রশ্নমূলক দাবি পেশ করা হয়। সেগুলো হলো—১. সব কিছু খোলা রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা কী? ২. অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষার নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদতে কী হচ্ছে? ৩. ইউনিসেফ-ইউনেস্কোর ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব শেষে বন্ধ, সবার আগে খোলা’ নীতি বাস্তবায়নে অনীহা কেন? ৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বেতন ও সেশন ফি নেওয়ার হেতু কী? ৫. শতভাগ টিকা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার রোডম্যাপ আদৌ সরকারের আছে কি?

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অনিক রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাগিব নাঈমের সঞ্চালনায় এতে আরও অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইমতিয়াজ মাহমুদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাবেক নেতা আবদুল্লাহ আল কাফী রতন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, শিক্ষা আন্দোলন কর্মী রাখাল রাহাসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত