খানাখন্দে ভরা টুঙ্গিপাড়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০১ পিএম

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাসস্ট্যান্ড থেকে পাটগাতী বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালক ও পথচারীরা।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড থেকে পাটগাতী বাজার। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে।

টুঙ্গিপাড়া পৌর এলাকার এই সড়কটির অধিকাংশ স্থান খানা-খন্দে ভরা।

সড়কের একটি পাশ ডেবে গেছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। আর খানা-খন্দে পরে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাটগাতী বাজারের সোনালী ব্যাংক থেকে পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটির বেহাল দশা। রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় খানা খন্দে পরিণত হয়েছে।

সামান্য বৃষ্টি হলেই খানাখন্দের স্থানগুলোতে জমে যায় পানি।  পানি ভরা রাস্তা দিয়ে চলতে পথচারীদের ভোগান্তি চরমে।

এ ছাড়া একপাশের রাস্তা ডেবে যাওয়াসহ ভাঙা ও খানা খন্দের কারণে ভ্যান, ইজিবাইক, মাহেন্দ্র সহ বড় যানবাহন গুলো বিপরীত পাশ থেকে চলাচল করছে। এতে নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭-৯৮ সালে নির্মিত হয় পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড-বাশবাড়ীয়া সড়ক।

প্রায় ৫ বছর আগে বাসস্ট্যান্ড থেকে পাটগাতী বাজার পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয় ও ভাঙা শুরু হয়। পরে ৩ বছর আগে সড়কের ভাঙা স্থানগুলো মেরামত করে এলজিইডি।

পাটগাতী বাজারের ফুটপাত ব্যবসায়ী ওহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারের একটি দোকানের সামনে পান বিড়ি সিগারেটের দোকান দিয়েছি। আর তার সামনের রাস্তার বেশ খানিকটা অংশ কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানার মতো হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই দোকানের সামনে রাস্তার ভাঙা অংশে পানি জমে যায়। তখন সামনে থেকে গাড়ি গেলে পানি ছিটে পথচারীদের গায়ে ও দোকানের মধ্যে যায়।

এ ছাড়া পাটগাতী বাজার থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। তাই আমাদের দাবি রাস্তাটি ভালোভাবে সংস্কার করা হোক।

পাটগাতী গ্রামের অসীম শেখ, বাবু শেখ সহ অনেকে জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি রাস্তাটির বেহাল দশা হয়ে আছে। কয়েক বছর আগে দেখেছি রাস্তার গর্ত ও ভাঙা স্থানগুলো কোনরকমে মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর রাস্তার আবার একই দশা। তাই আমাদের দাবি রাস্তা দ্রুত ভালোভাবে সংস্কার  করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।

ডুমুরিয়া ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামের ভ্যান চালক সিদ্দিক শেখ বলেন, পাটগাতী বাজার থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ভাঙা ও গর্ত রয়েছে। ভাঙা জায়গা থেকে চলাচল করলে ভ্যানের চাকা, রিংয়ের ক্ষতি হয়ে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

এ ছাড়া ভাঙা জায়গা থেকে ভ্যান চালিয়ে যাত্রীরাও গালমন্দ করে। তাই আমরা রাস্তার ভালো অংশ থেকে চলাচল করি। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, ভ্যান, মাহেন্দ্রসহ বড় যানবাহন চলাচল করে তাই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যায়। ভাঙা জায়গাগুলো বারবার সংস্কার করা হলেও বড় গাড়ি চলাচলের কারণে আবার ভেঙে যায়। সড়কটির বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা আছে এবং ভবিষ্যতে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত