জাবি ছাত্রকে স্মৃতিসৌধে মারধর: ৪ আনসার সদস্য বহিষ্কার

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০১ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে স্মৃতিসৌধে মারধরের ঘটনায় চার আনসার সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দোষী আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা আনসার কমান্ডার আফজাল হোসেন।

এদিকে মারধরের প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তি দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাবি শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। 

এর আগে সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। 

দাবিগুলো হলো আহত ছাত্রের চিকিৎসার ব্যয় বহন, দোষীদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং গ্রেপ্তার করা, স্মৃতিসৌধে চলমান অনৈতিক কাজ বন্ধ করা।

মানববন্ধনে মার্কেটিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান শাহরিয়ার বলেন, ‘সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও মারধরের শিকার হতে হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আনসার সদস্যরা একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে গুরুতর আহত করার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাসায় বসে তামাশা দেখেছে। তারা একবারের জন্যও আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে যায়নি। তাদের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিরুদ্ধে না গিয়ে ছাত্রবান্ধব হওয়া। অবিলম্বে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

মহসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান। পরে তারা শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া জয়।

এ সময় আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘অবরোধের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি শুনেছি, দোষী আনসারদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আনসারদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জেনেছি। আহত শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

দোষী আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে ঢাকা জেলা আনসার কমান্ডার আফজাল হোসেন বলেন, ‘মোহর আলী, ওমর ফারুক, রমজান আলী ও যুগল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসায় তাদের আনসার থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সব খরচের দায়িত্ব নেবে আনসার। আমরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত  ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ. স. ম. ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘আমরা আহত শিক্ষার্থীর সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। এ ঘটনার থানায় অভিযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।

সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নূর হোসেন তার দুই ভাগনেকে নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ দেখতে যান। সেখানকার দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাকে স্মৃতিসৌধ এলাকায় প্রবেশে বাধা দেন।

নূরের ভাষ্যমতে, সোমবার বিকেলে স্মৃতিসৌধে অনেক দর্শনার্থীকে অর্থের বিনিময়ে প্রবেশ করতে দিচ্ছিলেন দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা। নূর এর প্রতিবাদ করলে একটি কক্ষে নিয়ে বন্দী করে রাখা হয় তাকে। পরে সাত-আটজন আনসার সদস্য তাকে মারধর করেন।

মারধরের কারণে ঠোঁট, গলা, তলপেট ও মাথায় আঘাত পান বলে অভিযোগ নূর হোসেনের। এ ছাড়া লাঠি দিয়ে পা থেঁতলে দেওয়ারও অভিযোগ তার। নূর হোসেন বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত