সাভারের আশুলিয়ায় শিশু রবিউল (১০) হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত হত্যাকারী কিশোরকে (১৫) গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আদালতে ওই কিশোর স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর সংশোধনাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।
বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আল মামুন কবীর।
তিনি জানান, ৯ সেপ্টেম্বর শিশু রবিউল নিখোঁজ হয়। গ্রেপ্তার কিশোর জানায়, নিহত রবিউল তার বাসায় সেদিন খেলতে আসে। ওই বাসার সবাই গার্মেন্টসে চাকরি করায় তখন বাসায় কেউ ছিল না। বাসায় দুই বন্ধু একা একা খেলার সময় কার শক্তি বেশি তা পরীক্ষা করতে মারামারি এবং ঘুষাঘুষি করে। একপর্যায়ে রবিউলের মাথায় সজোরে ঘুষি দেয় সে। ঘুষি দেওয়ায় রবিউলের মাথা দেয়ালে সজোরে আঘাত পায়। সঙ্গে সঙ্গে সে পড়ে যায়। এতে ওই কিশোর ভয় পেয়ে ঘাবড়ে গিয়ে ওই বাড়ির সিঁড়ির নিচে কার্টন এবং পুরাতন প্যান্ট দিয়ে অচেতন রবিউলকে ঢেকে রাখে। সে ভয়ে কাউকে কিছু বলে না এবং ভেতরে ভেতরে অনুশোচনায় ভুগতে থাকে।
কিশোরের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, এভাবে ঘটনার তিন দিন পর ১২ সেপ্টেম্বর লাশের পঁচা বের হলে বাড়ির মালিক পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনদের খুঁজে লাশ শনাক্ত করিয়ে সুরতহাল করে লাশের পোস্ট মর্টেমের ব্যবস্থা করে পুলিশ। পরবর্তীতে আশুলিয়া থানায় মামলা হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন করে।
এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, মঙ্গলবার আসামিকে গ্রেপ্তার করলে জিজ্ঞাসাবাদে সে সব ঘটনা জানায়। বুধবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। বিজ্ঞ আদালত তাকে কিশোর সংশোধনাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দিলে তাকে সেখানে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজ ভাড়া বাসা থেকে সুমন মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম নিখোঁজ হলে এঘটনায় তার বাবা আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এর তিন দিন পরে গত রবিবার দুপুরে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়নের দূর্গাপুর মুন্সীবাড়ি এলাকার আবুল হোসেনের বাড়ির সিঁড়ির নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
