অবশেষে সেই মার্কিন ধনকুবের বান্ধবী হত্যায় দোষী সাব্যস্ত

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪১ পিএম

এইচবিও ক্রাইম ডকুমেন্টারি ‘দ্য জিংক্স’ এর বিষয়বস্তু মার্কিন আবাসান ব্যবসায়ী রবার্ট ডার্স্ট  অবশেষে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সুসান বারম্যানকে হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে এবং আরেক ব্যাক্তিকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। পারিবারিক ব্যবসার উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি একজন ধনকুবের হয়েছিলেন।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ডার্স্টের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। আগামী ১৮ অক্টোবর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। রায়ে ৭৮ বছর বয়সী এই আবাসন ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

ডার্স্ট তার স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পুলিশের সাথে কথা বলা বন্ধ করতে ২০০০ সালে মিসেস বারম্যানকে (৫৫) হত্যা করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজ বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সুসান বারম্যান। তিনি ডার্স্টের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ডার্স্টের স্ত্রী ক্যাথলিন এই হত্যাকাণ্ডের বেশ কিছু সময় আগে থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশের কাছে নিখোঁজ স্ত্রীর বিষয়ে সুসান তথ্য দিতে পারেন- এমন আশঙ্কা ছিল ডার্স্টের। তাই তিনি সুসানকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

১৯৮২ সালে নিখোঁজ হওয়া ডার্স্টের স্ত্রী ক্যাথলিনের সন্ধান এখনো মেলেনি। পুলিশ তাঁকে মৃত হিসেবেই ধরে নিয়েছে। ক্যাথলিন একজন মেডিকেলের ছাত্রী ছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল একজন ভালো ডাক্তার হওয়া। স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আগে থেকেই সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ডার্স্ট। তবে হাতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করেনি পুলিশ।

এ নিয়ে ডার্স্ট প্রথমে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও পরে নাটকীয়ভাবে ঘটনা ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। সে সময় টেলিভিশন চ্যানেল এইচবিওতে ডার্স্টের জীবনী নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণ করা হচ্ছিল। তাতেই ডার্স্টের গোপন কথোপকথন প্রকাশিত হয়। গোপন মাইক্রোফোনে তাঁর অপরাধের স্বীকারোক্তি শোনা যায়। ওই বক্তব্য গোপনে রেকর্ড করেছিল এইচবিও।

২০১৫ সালের মার্চে এসে ডার্স্টের জীবনী নিয়ে ওই ডকুমেন্টারির শেষ পর্ব প্রচার করা হয়। সেখানে সম্প্রচার করা হয় তাঁর অজান্তে রেকর্ড হয়ে যাওয়া ওই কথাগুলো। এর ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন এই ধনকুবেরকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স শহরের একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে শুধু ক্যাথলিনের নিখোঁজ কিংবা সুসানের হত্যাকাণ্ডই নয়, এইচবিওর ডকুমেন্টারিতে মরিস ব্ল্যাক নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গেও ডার্স্টের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসে। মরিস যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ডার্স্টের প্রতিবেশী ছিলেন। তাঁকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ডার্স্ট।

আদালতকে তিনি জানান, আত্মরক্ষা করতেই সে সময় তিনি তাকে হত্যা করেছিলেন। ওই মামলায় পরে অবশ্য তাঁকে নিরপরাধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ডার্স্ট সেসময় টেক্সাসে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। আর মরিস তার পরিচয় আবিষ্কার করে ফেলেছিল। যে কারণে মরিসকে হত্যা করেন ডার্স্ট।

মামলার শুনানিতে আদালতকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জন লেউইন বলেন, ডার্স্ট যে তিনজনকেই হত্যা করেছেন, তার সপক্ষে ‘পাহাড়সমান প্রমাণ’ রয়েছে। স্ত্রী ক্যাথলিনের ওপর যে পারিবারিক সহিংসতা চালানো হয়েছে, তার জন্য তাকে দাইয়ী করা হয়নি। এমনকি স্ত্রীর মৃত্যুর জন্যও তাঁকে কখনো দায়ী করা হয়নি। ২০ বছর কেটে গেল শুধু সুসানের হত্যাকাণ্ড নিয়েই।

দ্য জিংক্স এর শেষ পর্বে, ডার্স্টকে নিজেকে বিড়বিড় করে বলতে শোনা গেছে, ‘আমি কী করেছি? অবশ্যই তাদের সবাইকে হত্যা করেছি’।

দ্য জিংক্স এর শেষ পর্ব প্রচারিত হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে, মিসেস বারম্যানের হত্যার জন্য কর্তৃপক্ষ নিউ অরলিন্স থেকে ডার্স্টকে গ্রেফতার করে। বিচারের সময় বিচারকরা তার গোপনে ধারণ করা অডিও ক্লিপটি বাজিয়ে শুনিয়েছিলেন।

প্রসিকিউটররা ৭৮ বছর বয়সী ডার্স্টকে ‘নার্সিসিস্টিক সাইকোপ্যাথ’ বা ‘আত্মমুগ্ধ সাইকোপ্যাথ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অথচ এবার তাকে বাকী জীবন কারাগারে থেকেই তারপর মরতে হবে।

সুসান বারম্যান একজন অপরাধ লেখক ছিলেন, এবং ডার্স্টের একজন মুখপাত্র হিসাবে কাজ করেছিলেন, যখন তিনি তার স্ত্রীর নিখোঁজের বিষয়ে সন্দেহভাজন হয়েছিলেন।

২০১০ সালে তার বিয়ে নিয়ে ‘অল দ্য গুড থিংস’ নামের একটি সিনেমা বানানো হয়। এতে অভিনয় করেছিলেন রায়ান গোসলিং এবং কার্স্টেন ডানস্ট।

‘দ্য জিংক্স’ এর নির্মাতা অ্যান্ড্রু জেরেকি এই সিনেমারও ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন। ছবিটিতে এই ধনকুবেরের জীবন চিত্রিত করা হয়েছে, যেখানে তাকে একজন খুনি হিসাবে দেখানো হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত