করোনা পরীক্ষা না করে মনগড়া রিপোর্ট দেওয়ার মামলায় জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী মামলায় সাক্ষী হাজির করতে না পারায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকে শোকজসহ ১৮ অক্টোবর সাক্ষীদের হাজির করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ফেরদ্দৌসি জাহান ফেন্সী জানান, গত তারিখে তিনজনকে সাক্ষ্য দিতে সমন পাঠানো হয়। এর মধ্যে মিরপুর থানার বাসিন্দা মনসুর করিম নামে এক সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। অপর দুজন নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বাসিন্দা জাকিরায়া হোসেন ও তার স্ত্রী আদালতে হাজির হননি। এ দুই সাক্ষী হাজির করতে না পারায় আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন ডা. সাবরিনার স্বামী ও প্রতিষ্ঠানটির সিইও আরিফুল হক চৌধুরী, আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও ও জেবুন্নেসা।
২০২০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক লিয়াকত আলী।
এরপর একই বছর ২০ আগস্ট একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। পরে ২৭ আগস্ট বাদী কামাল হোসেনের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এই মামলায় মোট ৪০ জন সাক্ষীর ১৮ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
করোনার ভুয়া রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্ণধার আরিফুল চৌধুরীর স্ত্রী ডা. সাবরিনা চৌধুরী জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক। মামলার পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেকেজির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সাবরিনা ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়।
গত বছর ১২ জুলাই সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন জেকেজির প্রতারণা মামলার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সদুত্তর দিতে না পারায় তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জেকেজির কর্ণধার স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করেছেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নিয়েছেন সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি তারা নিতেন ১০০ ডলার। আসামি পক্ষে সাক্ষীকে জেরা করেন অ্যাডভোকেট এম এ জলিল ও অ্যাডভোকেট ফারুক আহম্মেদ।
