পুরোনো ইমামকে বাদ দেওয়ায় মসজিদে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১০

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৮ পিএম

যশোরের চৌগাছায় একটি মসজিদ নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় উপজেলার ধুলিয়ানী গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মসজিদের পুরোনো ইমামকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই মারামারির সূত্রপাত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর হোসেন খা জানান, ধুলিয়ানী বাজারে দীর্ঘ দিনের একটি মসজিদ আছে। সম্প্রতি মসজিদের ইমাম মাও. মমিনুর রহমানকে বাদ দেওয়া হয়। এ বিষয়টি মুসল্লিদের এক পক্ষ মানতে না পেরে মসজিদে নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকে।

আরও জানা গেছে, একপর্যায়ে গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিয়ার রহমান নতুন একটি মসজিদ নির্মাণে বাজারের পাশেই দুই শতক জমি দান করেন এবং সেখানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করে বাদ দেওয়া ওই ইমামকে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় ইমামকে চাকরিচ্যুত করা পক্ষের সামছুল হকসহ তার অনুসারীরা। এর জের ধরে রবিবার মাগরিবের আজানের পর নতুন মসজিদে মুসল্লিরা মাগরিবের নামাজ শেষ করার পরপরই প্রতিপক্ষ সামছুলের নেতৃত্বে ১০/১২ জন লোহার রড, শাবল, হাতুড়ি নিয়ে নতুন মসজিদের মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়। মুসল্লিদের চিৎকারে আশপাশের বাড়ি থেকে নারীরা ছুটে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয় বলে অভিযোগ।

এ সময় একপক্ষের সামছুল আলী (৫০), অপর পক্ষের মুক্তিযোদ্ধা শফিয়ার রহমান (৭১), জাহান আলী (৪০), জাহান আলীর স্ত্রী সোনাভান (৩৫), আতিয়ার রহমানের স্ত্রী জোসনা বেগম (৪০), হবিবর রহমান (৫৫), আল আমিনের স্ত্রী নয়নতারা (৪২), মনিরুল ইসলামের স্ত্রী রেখা বেগমসহ (৪০) অন্তত ১০ জন আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

একপক্ষের আহত সামছুল বিশ্বাস জানান, তারা (নতুন মসজিদ নির্মাণ পক্ষ) পুরান মসজিদকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ হামলা করে তাকে আহত করেন।

অপরপক্ষের আহত মুক্তিযোদ্ধা শফিয়ার রহমান বলেন, একজন নিরপরাধ মানুষকে (ইমাম) বিনা কারণে মসজিদ থেকে বিতাড়িত করেছে ওই পক্ষের লোকজন। গ্রামের মুসল্লিদের দাবিতে আমি দুই শতক জমি দিয়েছি মসজিদ করতে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সামছুল ও তার লোকজন নামাজ আদায় করার সময় হামলা করে বাড়ির মহিলাসহ আমাদের আহত করেছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত করে তিনি বিচারের দাবি করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা.আসিফ রায়হান বলেন, অধিকাংশ ব্যক্তির আঘাত বেশ গুরুতর। এখন প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে, এরপর আহতদের অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে।

চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত