চ্যাম্পিয়নস লিগে আসাটাই চমক ছিল শেরিফ তিরাসপোলের জন্য। ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে দেশহীন এক ক্লাবের নাম লেখানোটাই ছিল তাদের জন্য ইতিহাস।
কিন্তু কে জানত, নবাগত শেরিফ তাদের তাক লাগানো অভিযান চলমান রাখবে এভাবে! ‘পুঁচকে দলের’ তকমা নিয়ে নামবে জায়ান্ট বধে! চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগ ‘ডি’ গ্রুপে তাদের বাকি তিন সঙ্গী রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান ও শাখতার দোনেৎস্ক।
বলতে গেলে, ইউরোপিয়ান ফুটবলে বেশ পরিচিত নাম শাখতার। আর শেরিফ কিনা নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হারিয়ে দিল ইউক্রেনের ক্লাবটিকে! কিন্তু তা যে কেবল চমক ছিল না, তার প্রমাণ আরেকবার দিল মলদোভার তিরাসপোল শহরকেন্দ্রিক ক্লাবটি। তিরাসপোল অবস্থিত অস্বীকৃত রাষ্ট্র ট্রান্সনিস্ত্রিয়ায়।
আজীবন বলে যাওয়ার মতো গল্পই পেল শেরিফ। রিয়ালকে তাদেরই মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২-১ গোলে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল ইউরোপের অভিজাত ক্লাব লড়াইয়ের মূল মঞ্চে যোগ দেওয়া নবাগত ক্লাবটি।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সবচেয়ে সফল ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন লস ব্লাঙ্কোসদের হারানো কী সহজ কথা! সেই অসাধ্য কাজটিই করল মলদোভান চ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় শেরিফ। দা সিলভা লেইতের পাস থেকে ২৫তম মিনিটে হেডে গোল করে রিয়ালকে হতভম্ব করে দেন উজবেক উইঙ্গার ইয়াসুরবেক ইয়াখশিবোয়েভ। কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল সেই গোল শোধ করে দ্বিতীয়ার্ধে। একের পর এক আক্রমণ শাণিয়েও গোল পাচ্ছিল না রিয়াল।
অবশেষে পেনাল্টি পায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ৬৫তম মিনিটে স্পট-কিক থেকে রিয়ালকে সমতায় ফেরান করিম বেনজেমা। কিন্তু ম্যাচ শেষে বুনো উদ্যাপনটা করল শেরিফ। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে রোমাঞ্চ ছড়ানো জয় তুলে নেয় তারা। ৮৯তম মিনিটে আদামা ত্রাওরের কাছ বল পেয়ে হাফ-বলিতে গোলরক্ষক থিবু কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন লুক্সেমবার্গ মিডফিল্ডার সেবাস্তিয়ান থিল।
এই গোলের পর সুনসান নীরবতা নেমে আসে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। অন্যদিকে ঐতিহাসিক জয়ে বাধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে শেরিফ।
থিলের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকল ক্যারিয়ার সেরা। ম্যাচ শেষে সেই কথাও বললেন এফসি টাম্বোভ থেকে ধারে শেরিফে যাওয়া ২৭ বছর বয়সী তারকা, ‘এটা নিশ্চিত যে, এটাই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল।’
‘ডি’ গ্রুপে রিয়াল-ইন্টারের মতো জায়ান্টরা থাকলেও তাদের পেছনে ফেলে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শেরিফ। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রিয়াল। সমান এক পয়েন্ট পরের স্থানে ইন্টার ও শাখতার। ইউক্রেন সফরে শাখতারের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে নেরাজ্জুরিরা।
