পর্যটনকেন্দ্রে বিদেশিদের জন্য ক্যাসিনোর সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১৯ পিএম

দেশের পর্যটন এলাকাগুলোতে বিদেশিদের জন্য ‘ডেডিকেটেড ক্যাসিনোসহ’ তাদের বিনোদন উপযোগী সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রেখে স্থাপনা নির্মাণের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকায় ৫ হাজার পর্যটকের অবস্থানের উপযোগী স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে তৈরি করার কথা বলেছে।

এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ‘ডেডিকেটেড ক্যাসিনোসহ’ তাদের বিনোদন উপযোগী ব্যবস্থা রেখে স্থাপনা নির্মানের জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে।

বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, “বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য আমরা একটি এক্সক্লুসিভ জায়গা নির্ধারণ করে বিদেশিদের জন্য সকল সুযোগ সুবিধা রাখার ব্যবস্থা করতে বলেছি।”

তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখানে অনেক বিদেশি ক্রেতা আসেন। কিন্তু বিদেশিদের জন্য আমাদের এখানে বিনোদনের কোন ব্যবস্থা নেই। সমস্ত মুসলিম দেশগুলোর জন্য তাকালে দেখা যাবে তারা বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রেখেছে।”

তিনি বলেন,“আমরাও চাই আমাদের দেশে বিদেশি পর্যটক আসুক। তারা তাদের মত করে ওই নির্ধারিত এলাকায় ঢুকবে। সেখানে বাংলাদেশের কোনো লোক যেতে পারবে না। সারা বিশ্বে যে ধরনের সুযোগ দেওয়া হয় তাদের জন্য সেই সব সুযোগ সেখানে থাকবে। এতে করে বাংলাদেশকে মানুষ চিনতে পারবে।”

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২৩ হাজার। এই সশয় অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা ছিল এক কোটি।

২০৪০ সাল নাগাদ পাঁচ লাখ আবাসন সুবিধার সুযোগ তৈরি, ১০ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটক আগমন এবং আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়কে সামনে রেখে ট্যুরিজম বোর্ড একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করছে।

প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে পর্যটন শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া পর্যটন শিল্প বিকাশের স্বার্থে আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থাসহ দেশি-বিদেশি ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের সযযোগিতা নেওয়ার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।

কক্সবাজারের পর্যটন করপোরেশনের মোটেল শৈবাল, প্রবাল ও উপলকে একত্রিত করে মাস্টারপ্লানের মাধ্যমে আধুনিক, আকর্ষণীয় এবং উন্নত সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পর্যটন স্থাপনা তৈরি এবং বৈঠকে কুয়াকাটার পর্যটন এলাকা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে অগোছালো স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করে মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে আধুনিক, আকর্ষণীয় এবং উন্নত সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পর্যটন স্থাপনা তৈরির সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, “কক্সবাজারের তিনটি মোটেলে মোট সাড়ে ১৫ একর জমি। এগুলোর অবস্থানও একেবারেই সৈকতের কাছে। কিন্তু সেখানের মোটেল তিনটিতে সেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেই। বেশিরভাগ রুমগুলো নন এসি। পর্যটকরা সেখানে থাকতে চান না। এজন্য আমরা তিনটি মোটেলকে একত্রিক করে বড় সব ধরনের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত স্থাপনা তৈরির সুপারিশ করেছি।”

কুয়াকাটা সম্পর্কে তিনি বলেন, “কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতটিও দেশের অনন্য। এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। পদ্মা ব্রিজ উদ্বোধন হলে ঢাকা থেকে সেখানে যেতে মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগবে। এজন্য আমরা বলেছি সেখানে আগামী ৬ মাসের মধ্যে এমন স্থাপনা তৈরি করা হোক যাতে করে ৫ হাজার লোক থাকতে পারে তাদের সেই নির্দেশনা দিয়েছি।”

আ স ম ফিরোজ জানান যদি কোন ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী গ্রুপ এ খাতে বিনিয়োগ করতে চায় তাদের জন্য স্বল্প সুদে বড় অংকের ঋণের ব্যবস্থা করারও সুপারিশ করা হয়েছে।’

বৈঠকে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের জন্য ভিসা ও ইমিগ্রেশন পদ্ধতি সহজ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

আগামী ছয় মাস পরে কমিটি সুপারিশ বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে আকারও বৈঠক করবে।

আ স ম ফিরোজ বলেন, “আমরা আজকের বৈঠকে যেসব সুপারিশ ও নির্দেশনা দিয়েছি এটার অগ্রগতি নিয়ে আমরা ৬ মাস পরে আবারও বসব। ওই সময় আমরা দেখতে চাই, তারা আমাদের নির্দেশনার কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।”

আ স ম ফিরোজের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, মাহবুব উল আলম হানিফ, মির্জা আজম, মুহিবুর রহমান মানিক এবং নাহিদ ইজাহার খান বৈঠকে অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত