মাদককাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ার পর বলিউডের বহু তারকাই শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবার প্রকাশ্যে আরিয়ানের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখলেন হৃত্তিক রোশন।
খোলা চিঠিতে বন্ধু শাহরুখপুত্র আরিয়ানকে কী লিখেছেন হৃত্তিক?
‘আমার প্রিয় আরিয়ান, জীবনে এই যাত্রাপথ বড়ই অদ্ভুত। এখানে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দুর্দান্ত কিছু লুকিয়ে রয়েছে। জীবন তোমার দিকে কখনও কখনও একটি বাঁকা বল ছুঁড়ে দেবে, কিন্তু ঈশ্বর করুণাময়। তিনি কেবল কঠিনতম খেলোয়াড়দের সবচেয়ে কঠিন বল দেন। তোমাকে বুঝতে হবে তুমি স্পেশাল, এই খেলায় তাই তিনি তোমাকে বেছে নিয়েছেন। আমি জানি, তুমি খুবই চাপ অনুভব করছ। রাগ হচ্ছে, ভয় পাচ্ছ, অসহায় লাগছে। এই সবকিছুই তোমার মধ্যে লুকিয়ে থাকা হিরোকে জাগিয়ে তুলবে। তবে সাবধান! নিজের মধ্যে থাকা ভালোটাকে নষ্ট হতে দিও না। তোমার ভিতর দয়া, করুণা, ভালবাসা আছে। নিজেকে দগ্ধ হতে দাও, কিন্তু এগুলোকে বাঁচিয়ে রেখো। ভুল-ভ্রান্তি, জয়-পরাজয় সবই আদতে এক। তোমাকে বুঝে নিতে হবে, কাকে আপন করবে, কাকে বাদ দেবে’।
গত কয়েকদিন ধরে, খানরা ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুদের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছেন, যেমন, সালমান খান এবং সুজান খান (হৃতিক রোশনের প্রাক্তন স্ত্রী)। আরিয়ান খানকে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা পর সালমান খান শাহরুখের সঙ্গে দেখা করেন এবং সুজান খান একটি পোস্ট লিখে বলেন যে তিনি ‘ভুল সময়ে ভুল জায়গায়’ ছিলেন।
সোমবার, মুম্বাইয়ের একটি আদালত আরিয়ানের জামিনাবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রিমান্ড হেফাজতে পাঠিয়ে দেয়, যদিও আদালতে তার আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন যে, আরিয়ান ক্রুজ জাহাজে একজন বিশেষ আমন্ত্রিত ছিলেন এবং তাই ‘এই মামলায় তাকে পুরো অভিযুক্ত করা যাবে না’।
বৃহস্পতিবারও জামিন পেলেন না আরিয়ান খান। তবে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)-র আইনজীবীর দাবি মতো আরিয়ান-সহ বাকিদের তাদের হেফাজতে রাখার আর্জি খারিজ করে দেয় আদালত। বিচারপতি দাবি করেন, এনসিবি তদন্তকারীরা তাদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছেন। এর পরেই আরিয়ানদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারপতি। সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ানদের অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করেন শাহরুখ নিযুক্ত আইনজীবী। সেই অন্তর্বর্তী জামিনের শুনানি হবে শুক্রবার সকাল ১১টায়।
গত শনিবার মুম্বই থেকে গোয়ামুখী এক প্রমোদতরীর পার্টি থেকে আটক করা হয় আরিয়ান-সহ আরও কয়েকজনকে। দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার হন শাহরুখ-পুত্র। আরিয়ানের দুই সঙ্গী মুনমুন ধমেচা এবং আরবাজ শেঠ মার্চেন্টকেও গ্রেফতার করে এনসিবি।
ভারতের মাদকবিরোধী ব্যুরো জানায়, অভিযানে ১৩ গ্রাম কোকেন, ২১ গ্রাম চরস, ২২টি এমডিএমএ বড়ি এবং ৫ গ্রাম এমডি পাওয়া গেছে। আরিয়ান খানের কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তবে অ্যান্টি ড্রাগস ব্যুরো জানিয়েছে, তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটগুলো থেকে বোঝা যায় যে আরিয়ান মাদকাসক্ত।
