আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি ও রায়গঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন মোট ১৭টি ইউনিয়নের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, জনবিচ্ছিন্ন নেতা, জামায়াত পরিবারের সন্তান ও বিএনপি নেতা ও সিনিয়র নেতাকে উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের নেতাদের নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রার্থী বদলের দাবিতে তারা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগও পাঠিয়েছেন।
উপজেলার বহুলী ইউনিয়নে মনোনয়ন পাওয়া মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে গরু চুরির মূল হোতা অভিযোগে স্থানীয় নেতা কর্মী ও এলাকাবাসী বহুলী বাজারে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। এর প্রতিবাদে এ ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
শিয়ালকোল ইউনিয়নে দলের সিনিয়র নেতাদের উপেক্ষা করে ছাত্রলীগ নেতা সেলিম রেজাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
শিয়ালকোল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আজম তালুকদার বাবলু বরেন, বিতর্কিত প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার জন্য দলের বিশেষ বর্ধিত সভা করে রেজুলেশন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে পাঠিয়েছি। আশা করছি দল বিষয়টির মূল্যায়ন করবে। যদি মনোনয়ন পরিবর্তন না করা হয় তবে সবাই মিলে একক প্রার্থী নির্ধারণ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করা হবে।
কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর মনোনয়ন পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ইউনিয়ন ও ১০টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কাছে সোমবার লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন।
সয়দাবাদ ইউনিয়নে শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়া বর্তমান চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলামকে নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে ৮ থেকে ১০টি মামলা তদন্তাধীন।
রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নে বিএনপি নেতাকে নৌকার প্রার্থী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে পাঙ্গাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, রফিকুল ইসলাম খান নান্নু নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ। আওয়ামী লীগে তার কোনো সদস্য পদ নেই। তিনি এখনো ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন।
ধুবিল ইউনিয়নে জামায়াত নেতার ছেলে মিজানুর রহমান রাসেলকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ায় দলের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন হাসান বলেন, মিজানুর রহমান রাসেলের বাবা প্রয়াত প্রফেসর আবুবকর তালুকদার ১৯৮৬ সালে জামায়াত ইসলাম থেকে সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন তুলেছিলেন। তার চাচা ও শ্বশুরের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার ভাই হিযবুত তওহিদের সক্রিয় সদস্য।
এ বিষয়ে ধুবিল ইউনিয়নর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান রাসেল নিজেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন দাবি করলেও তার সময়ের কমিটির কারও নাম বলতে পারেননি।
সোনাখাড়া ইউনিয়নের মনোনয়নপ্রাপ্ত বর্তমান চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপনের বিরুদ্ধে হতদরিদ্রদের ঘর দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত চলছে।
এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে এম হোসেন আলী হাসান বলেন, দলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেত্রী। তিনি সব প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। আমরা চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্তদের পক্ষেই কাজ করব, এর কোনো বিকল্প নেই।
