ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে তাহমিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী ওবায়দুল হক টুটুলের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা এ রায় ঘোষণা করেন। মাত্র ৬০ কার্যদিবসে এ হত্যার বিচার হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রায়ে নিহতের বাবা সাহাবউদ্দিন সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আবদুস সাত্তার বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
এর আগে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সাইফুদ্দিনের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে রোববার (১৭ অক্টোবর) এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ করেন আদালত।
এ মামলায় বাদী, ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তার ও পুলিশসহ ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এ মামলায় ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আলতাফ হোসেন জানান, সাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে বিগত বছরের ১৬ এপ্রিল ওবায়দুল হক টুটুলকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুদ্দিন ওই দিন আসামিকে আদালতে হাজির করেন।
টুটুল হত্যার দায় স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধ্রুবজোতি পালের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এসআই সাইফুদ্দিন বদলি হওয়ায় মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই এমরান হোসেনকে। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এমরান হোসেন গত বছরের ১৬ নভেম্বর ওবায়দুল হক টুটুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন।
আদালত একই বছরের ডিসেম্বর মাসে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।
১৩ জানুয়ারি নিহত গৃহবধূর পিতা ও মামলার বাদী সাহাবউদ্দিনের প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ এপ্রিল শহরের উত্তর বারাহীপুর ভূঞা বাড়িতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করে টুটুল।
পরে হত্যাকারী টুটুল নিজেই ৯৯৯ এ খবর দিয়ে পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে টুটুলকে গ্রেপ্তার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও ফেসবুকে প্রচার চালানো মোবাইল জব্দ করে।
পরিবার সূত্রে জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বারাহিপুর এলাকার গোলাম মাওলা ভূঁঞার ছেলে ওবায়দুল হক ভূঁঞা টুটুল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আকদিয়া গ্রামের সাহাব উদ্দিনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারকে বিয়ে করেন।
তাদের তাফান্নুন আরোয়া মায়োস নামে দেড় বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। স্ত্রীকে হত্যার আগে ফেসবুক লাইভে এসে টুটুল সবার কাছে মাফ চান এবং ঘটনার জন্য নিজেই দায়ী বলে স্বীকার করেন।
