ছেলের মৃত্যুতে আমি সবকিছুই হারিয়েছি: বনলতা দাস

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৬ পিএম

ছেলে ছিল বনলতা দাসের সবকিছু, সেই ছেলেকে হারিয়ে তিনি সবকিছুই হারিয়েছেন। নোয়াখালীর একটি মন্দির চত্বরে হামলার ঘটনায় নিহত হন বনলতার ২১ বছর বয়সী ছেলে প্রান্ত চন্দ্র দাস।

বিবিসি বাংলায় এক সাক্ষাৎকারে সব হারানো বনলতা বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন যে মন্দির একটি নিরাপদ ও পবিত্র স্থান। তাই কলেজছাত্র ছেলে প্রান্তকে মন্দির চত্বরে অবস্থান করার অনুমতি দিয়েছিলেন তার মা বনলতা। এই অনুমতি দেওয়া নিয়ে তিনি তখন চিন্তিত ছিলেন না। কিন্তু অঘটন ঠিকই ঘটল।

ছেলের মৃত্যুতে হতবাক বনলতা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ছোট ছেলেটি ছিল আমার বুকের ধন। তার মৃত্যুতে আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। আমি সবকিছুই হারিয়েছি।’

কুমিল্লা শহরে নানুয়া দীঘির পাড়ের অস্থায়ী মণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননা করা হয়েছে—এমন কথা ছড়িয়ে পড়ার পর বনলতার ছেলে সহিংসতার শিকার হন।

বিবিসির খবরে জানানো হয়, কয়েক দিনের সহিংসতায় দুজন হিন্দুসহ সাত ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন অনেকে। উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত্ত করতে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়। ব্যবহার করতে হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল।

বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্রও (আসক) জানিয়েছে, হামলা–ভাঙচুরের জেরে ১৮ জেলায় ৭ জন নিহত ও ২৭৪ জন আহত হয়েছেন।

ইসকন পরিচালিত মন্দিরে হামলার তথ্য শোনার পর বনলতা ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রান্তকে মরিয়া হয়ে খুঁজছিলেন। এক দিন পর পাশের একটি পুকুরে তার লাশ পাওয়া যায়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্নিত থাকার কথা জানান তার মা।

বনলতা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা এখন আমাদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছি। আমরা আরও হামলার আশঙ্কা করছি। ফলে এই মুহূর্তে আমি নিজেই মন্দিরে অবস্থান করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত