জনবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বন্ধের দুদিন পর ক্লোজ ডাউন প্রত্যাহার করে আবারও দিনাজপুরের হিলি রেলওয়ে স্টেশনটিকে চালু করা হয়েছে। এতে করে ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো টিকিটসহ অন্যান্য সেবা আগের মতো মিলছে স্টেশনে।
স্টেশনটি চালু হওয়ায় ও প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়ানোর সুযোগ বহাল থাকায় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মাঝে। স্থায়ী জনবল নিয়োগসহ ঢাকাগামী স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে যথারীতি হিলি রেলস্টেশনে স্টপেজ থাকা সকল ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াচ্ছে। সকাল সাড়ে ৮টায় যথারীতি পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেন এবং সকাল সোয়া ১০টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনটি হিলি রেলস্টেশনে দাঁড়ায়। যথারীতি যাত্রী ওঠানামা শেষে আবারও ট্রেন দুটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
স্থানীয় রুহুল আমিন বলেন, হিলি রেলস্টেশনটি ক্লোজ ডাউন ঘোষণার ফলে স্টপেজ থাকা সকল ট্রেন প্ল্যাটফর্মে না দাঁড়িয়ে ২নং লাইনে দাঁড়াতো। এতে করে ট্রেনে উঠতে বয়স্কসহ মহিলাদের খুব সমস্যা হতো। আজ থেকে আবারও স্টেশনটি চালু হওয়ায় ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াচ্ছে, এতে করে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী মানুষের জন্য খুব সুবিধা হয়েছে। তবে স্টেশনটিতে যদি ঢাকাগামী কোন ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হয় তাহলে আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের জন্য খুব ভালো হতো।
হিলি রেলস্টেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত চুক্তিভিত্তিক মাস্টার তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, জনবল সংকটের কারণে গত ২০ অক্টোবর থেকে হিলি রেলস্টেশনটিকে ক্লোজ ডাউন ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে আমাকেও যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল সেটি বাতিল করে কর্তৃপক্ষ আমাকে বিদায় করে দেয়। তবে কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার রাতে আমাকে জানায়, হিলি রেলস্টেশনের কার্যক্রম শুরু করে সেখানে দায়িত্ব পালনের জন্য। সে মোতাবেক আমি আবারও হিলি রেলস্টেশনে দায়িত্ব পালন শুরু করেছি।
তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে হিলি রেলস্টেশনে স্টপেজ থাকা সকল ট্রেন যথারীতি আগের মতো প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াচ্ছে। তবে মাত্র ১জন পয়েন্টসম্যান দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যেখানে ৩জন থাকার কথা। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন পয়েন্টসম্যান দেওয়ার বিষয়ে।
হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন বলেন, হিলি রেলস্টেশনটি ক্লোজ ডাউন করার বিষয়টি শোনা মাত্র রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক বরাবরসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। সেই সাথে আমি তার সাথে কথা বলি, হিলি রেলস্টেশনটিকে এইভাবে বন্ধের বিষয়টি উনি জানতেন না। এটি বন্ধের কারণে আমাদের প্রচণ্ড ক্ষতি এলাকাবাসীর চরম ভোগান্তির বিষয়টি তাকে অবহিত করি। সে সময় উনি আমাকে জানান, অস্থায়ী জনবল দিয়ে স্টেশনটিকে চালু রাখা হয়েছিল, সেটি আবারও বাড়ানো যায় কিনা দেখছেন। সে মোতাবেক তাদেরকে আবারও ৬মাসের জন্য মেয়াদ বাড়িয়ে পুনরায় রেলস্টেশনটিকে চালু করেছেন। তবে এখন আমাদের দাবি অস্থায়ী জনবল দিয়ে হিলি রেলস্টেশন পরিচালনা নয় এখানে স্থায়ী জনবল নিয়োগ দিয়ে এটি চালু করতে হবে।
রেলওয়ের জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আহসান হাবীব বলেন, স্থায়ী জনবল নিয়োগের একটা প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়ার জনবল নিয়োগ শুরু হয়েছে, এটি হলে আমরা ধীরে ধীরে সবকিছু কমপ্লিট করতে পারব।
