শাহরুখপুত্রের মামলায় নতুন মোড়, ১৮ কোটি রূপি ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩১ পিএম

মাদক মামলায় শারুখপুত্র আরিয়ান খানকে গ্রেপ্তারের পর থেকে একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। এবার প্রভাকর শৈল নামের এক ব্যক্তির হলফনামাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হল। নিজের হলফনামায় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) অফিসার সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন ওই ব্যক্তি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই খবর দেওয়া হয়েছে।

গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল ক্রুজে এনসিবির অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন সমীর ওয়াংখেড়ে। তাঁর তত্ত্বাবধানেই আরিয়ানের মামলার তদন্ত চলছে। এই সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধেই অভিযোগ এনেছেন প্রভাকর শৈল।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরিয়ানের মামলার সাক্ষীদের তালিকায় প্রভাকরের নাম রয়েছে। এদিকে হলফনামায় নিজেকে কে পি গোসাভির ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে দাবি করেছেন। গোসাভিই সেই ব্যক্তি যার সঙ্গে আরিয়ানের সেলফি ভাইরাল হয়। ওদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কেপি গোসাভি নিখোঁজ হয়ে গেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে লুকআউট নোটিস।

নিজের হলফনামায় প্রভাকর জানিয়েছেন, তিনি কে পি গোসাভি ও জনৈক স্যাম ডি’স্যুজার কথোপকথন শুনেছিলেন। দুজন ১৮ কোটি টাকার বিনিময়ে আরিয়ান খানের মামলার দফারফা করার কথা বলছিলেন। যার মধ্যে ৮ কোটি টাকা নাকি সমীর ওয়াংখেড়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা হয়।

একই সন্ধ্যায়, কেপি গোসাভি, স্যাম ডিসুজা এবং শাহরুখ খানের ম্যানেজার পূজা দাদলানি একটি গাড়ির ভেতরে ১৫ মিনিটের বৈঠক করেছিলেন।

প্রভাকরের দাবি, সেই টাকা স্যাম ডি’স্যুজার হাতেও দেওয়া হয়েছিল। প্রভাকর জানান, নিজের নিরাপত্তার কারণেই তিনি আত্মগোপন করে রয়েছেন এবং হলফনামার মাধ্যমে বক্তব্য পেশ করেছেন।

গত ৬ অক্টোবর এনসিবি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যে ৯ জন সাক্ষীর নাম ঘোষণা করেছিল তার মধ্যে প্রথম নামটিই ছিল প্রভাকর শৈল।

তবে, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর পক্ষ থেকে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। যদি তেমনই হতো তাহলে শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান কেন এখনও আর্থার রোড জেলে রয়েছেন? পালটা এই প্রশ্ন করেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা এক অফিসার। প্রভাকরের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমীর ওয়াংখেড়েও। আদালতে বিষয়টি উঠলে তখন যোগ্য জবাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরেকটি সূত্র বলেছে, ‘এ দাবি করা হয়েছে শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য। অফিসে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। এ ধরনের কিছু ঘটেনি’।

কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, তারা ২ অক্টোবরের আগে প্রভাকর শৈলকে কখনো দেখেননি এবং তিনি কে সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।

এনসিবির আরেকটি সূত্র এনডিটিভিকে বলে, ‘এই হলফনামাটি এনডিপিএস আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে। আমরা সেখানে আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাব’।

এর আগে মহারাষ্ট্র প্রদেশের মন্ত্রী এবং জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির নেতা নবাব মালিক অভিযোগ করেছেন যে, সমীর ওয়াংখেড়ে লকডাউনের সময় মালদ্বীপে ছিলেন এবং সেখানে উপস্থিত বলিউড ব্যক্তিত্বদের উপর চাঁদাবাজি করেছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে মহারাষ্ট্র সরকারের বদনাম করার জন্য এই অফিসার বিজেপির নির্দেশে কাজ করছেন।

ওয়াংখেড়ে ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন যে, তিনি তার সন্তানদের নিয়ে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন, ‘যথাযথ অনুমতি নিয়ে, আইনত এবং আমার নিজের অর্থ দিয়ে’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত