‘নদী বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও’ এই স্লোগানে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ পালিত হয়েছে। মহাদেও নদী রক্ষা কমিটি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচী পালন করা হয়।
রবিবার দুপুরে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় রংছাতি ইউনিয়নের বরুয়াকোণা এলাকায় মহাদেও নদীর বালুচরে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা।
মিছিলটি নদী থেকে পাতলাবন গির্জাঘর হয়ে চিকনটুপ তিন রাস্তা মোড়ে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ থেকে অবিলম্বে মহাদেও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ, এ কাজে ব্যবহৃত পরিবেশ বিধ্বংসী সমস্ত ড্রেজার অবিলম্বে বন্ধ, মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হয় এমন স্থানে বালু ও পাথর উত্তোলনের সরকারি ইজারা বন্ধ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ও পরিবেশ বিনষ্টকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে-এ চার দফা দাবি জানানো হয়।
দাবি না মানলে আগামী সাত দিনের মধ্যে ইউএনও অফিস ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোণানা করা হবে জানান বক্তারা।
নদী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহন রংখেংয়ের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন লুয়ের লংমিন, সদস্য বাবুল নাফাক, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. হাবিল উদ্দীন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক এন্ড্রু সলোমার, সমাজ সেবক নিরন্তর বনোয়ারীসহ আরো অনেকে।
কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), কাপেং ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ গারো-লিঙাম ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, বাংলাদেশে গারো ছাত্র সাংগঠন (বাগাছাস), গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু), গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ), বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠন (বাহাছাস), পাতলাবন গ্রাম উন্নয়ন কমিটি এবং বরুয়াকোনার বাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটি।
চলতি বছরের মার্চ মাসে দরপত্র অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ওমরগাঁও, হাসানোয়াগাঁও ও বিশাউতি মৌজা হতে ৩৫.১৫ একর স্থানে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেয়। উত্তোলিত পাথর বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও ইজারাকৃত স্থান থেকে দেড় কিলোমিটার উজানে মহাদেও, সন্ন্যাসীপাড়া ও চীকনটুপ মৌজায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করছে বর্তমান ইজারাদার।
গত বছরের আগস্ট মাসের ১৬ তারিখ ৪ নম্বর আদেশে মহাদেও, চীকনটুপ ও প্যাচামারী মৌজায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে সাবেক ইজারাদারকে গ্রেপ্তার এবং ইজারাকৃত স্থানের বাইরে ব্যবহৃত নৌকা ও মেশিন জব্দ করার নির্দেশনা দিয়েছিল কলমাকান্দার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত।
