ইউপি নির্বাচন: স্বতন্ত্র ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে হামলা

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪২ পিএম

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলিনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলন ও শিকারমঙ্গল ইউনিয়ন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল হক মালের বাড়িতে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে জানা যায়, এ সময় মিলনের বাড়িতে ঢুকে একটি প্রাইভেটকার ও ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে ১০ জন আহত হন। এ ছাড়া সিরাজুলের নিজ বাড়ি উত্তর চরফতের বাহাদুরপুরে হামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সাতজন আহত হন। আহতদের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় দুই ইউনিয়নে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরে এলাকায় থমথম পরিস্থিতি বিরাজ করায় পুলিশ মোতায়েন  করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর অভিযোগে জানা যায়, দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল আলম মৃধা বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তর চরফতে বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি নির্বাচনী পথসভার আয়োজন করে। হঠাৎ উত্তেজিত জনতা সভাস্থল থেকে স্লোগানসহ তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বিক্ষুব্ধদের হামলায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ (৬৭), বোন মুর্শীদা বেগম (৫৫), ছোট বোন শিশির আক্তার (৪৮), ছোট ভাই মনির মাল (৩০), চাচাতো ভাই রোমান মাল (২২) ও ফরহাদ মালসহ (৪০) সাতজন আহত হয়।

image

অন্যদিকে একই দিন সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলনের বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিস করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রহমান মিলনের বাড়িতে হামলা করে। তারা মিলনের একটি প্রাইভেটকার ও সমর্থকদের ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। হামলায় জিফাত সরদার (২০), তামিম তালুদার (২২), মুক্তা (২৫) ও উজ্জ্বল তালুকদারসহ (২৪) কমপক্ষে ১০ জন গুরুতর আহত হন।

এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল হক মাল জানান, ‘আমার বাড়িতে এসে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল আলম মৃধা, তার দুই ছেলেসহ অন্যান্য লোকজন হামলা চালায়। হামলায় আমার ভাই-বোনসহ অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে। এর আগেও তার কর্মীবাহিনী আমাদের ওপর হামলা করেছে। সে বিষয় কালকিনি থানা ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে অবহিত করেছি। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন করা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ঊর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতা কামনা করি।’

অভিযোগের বিষয় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল আলম মৃধা বলেন, ‘আমরা মিছিল নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়ির সামনে গিয়ে স্কুল মাঠে যাচ্ছিলাম। এ সময় তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা তাদের ওপর কোনো হামলা বা কাউকে মারধর করেনি। নৌকার জয় হবে, এটা তার সহ্য হচ্ছে না। আমি তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলন জানান, তার নির্বাচন বানচাল করার জন্য আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ পারভেজের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা-ভাঙচুর করেছে। তিনি অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানান।

আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহীদ পারভেজ বলেন, আমার নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও আমার নেতা-কর্মীদের ওপর স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলনের প্রায় শতাধিক সর্মকরা হামলা চালায়। আমার নির্বাচনী অফিস, ব্যানারসহ চেয়ার ভাঙচুর করেন হামলাকারীরা। এ সময় তাদের হামলায় আমার বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়। আমি এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার কঠোর প্রতিবাদ জানানোসহ এলাকায় শান্তির দাবি জানাই। তবে এ ঘটনার পরে আমি থানা পুলিশকে অবহিত করলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি ইশতিয়াক আসফাক রাসেল জানান, ‘ঘটনার পর দ্রুত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন  করা আছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল হক মাল একদিন আগে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেটা এ বিষয়ে নয়।’

image

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) চাইলাউ মারমা ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, এখন এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত